রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ বলেই এক রান দরকারে ব্যর্থ হন, তবে শুক্রবারের একই সিরিজে তিনি ১৬ রান করে ম্যান‑অফ‑দা‑ম্যাচের উপাধি জিতেছেন।
বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে। শেষ ওভারে রাইডার্সকে মাত্র এক রান দরকার ছিল, যখন মাহমুদুল্লাহ লো‑ফুল টস ডেলিভারি সোজা ফিল্ডারের কাছে মারেন। দৌড়ে সিঙ্গল নেওয়ার চেষ্টায় তিনি রান‑আউট হয়ে যান এবং ম্যাচটি টাই হয়। টায়ের পর সাপার‑ওভারে রাইডার্সের হারে পরাজয়, যা দলের জন্য দুঃখজনক শেষ।
মাহমুদুল্লাহকে ২০১৬ সালের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ ওভারে শেষ মুহূর্তে দলের জয় হারাতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ের মতোই তার ওপর সমালোচনার তীর আবারও নিক্ষিপ্ত হয়। তবে তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথের মধ্যে এই ধরনের উত্থান-পতন স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবারের ম্যাচে রাইডার্সের বিপক্ষে ছিল সিলেট টাইটান্স। শেষ পাঁচ ওভারে রাইডার্সকে ৪৯ রান দরকার ছিল। মাহমুদুল্লাহ প্রথমে তিন বলের মধ্যে তিন রান যোগ করেন, কিন্তু তৎপরতা দেখাতে হইল মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা রাইডার্সকে সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, এবং পরবর্তীতে রাইডার্স সহজে জয়লাভ করে। মাহমুদুল্লাহ ৩৪ বলে ১৬ রান করেন, যা তাকে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি এনে দেয়।
মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিং পজিশন নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এক বলে এক রান—এটা বলা সহজ, কিন্তু ডেলিভার না করা কখনো কখনো ঘটে। অনেকেই ক্রিকেটকে সহজ মনে করে, বিশেষ করে টি‑টোয়েন্টি মিডল‑অর্ডার ব্যাটসম্যানরা তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ তা জানে না। ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়া সহজ নয়; কখনো সফল, কখনো ব্যর্থ।” তার কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রতি কিছুটা রাগ ও হতাশা, যা তাকে অতীতের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পর মাহমুদুল্লাহ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “অনেক কিছু বলার আছে, সময় হলে বলব।” এখন তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাট—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি‑টোয়েন্টি—থেকে অবসরে চলে গেছেন। তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে এই মন্তব্যগুলো তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
মাহমুদুল্লাহর এই দুই দিনের পারফরম্যান্স রাইডার্সের জন্য মিশ্র অনুভূতি নিয়ে এসেছে। একদিকে শেষ বলের ব্যর্থতা দলকে হারাতে বাধ্য করে, অন্যদিকে পরের দিন ম্যান‑অফ‑দা‑ম্যাচের স্বীকৃতি তার মানসিক শক্তি ও দক্ষতা প্রমাণ করে। দলটি এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে একই পজিশনের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রাইডার্সের জন্য এখনো মাঝারি অর্ডারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শেষ ওভারে চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। মাহমুদুল্লাহর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যদিও তিনি এখন মাঠে না থাকলেও তার ছাপ দলকে প্রেরণা দেবে।
সারসংক্ষেপে, শেষ‑ওভারের ব্যর্থতা এবং পরের দিন ম্যান‑অফ‑দা‑ম্যাচের অর্জন মাহমুদুল্লাহকে ক্রিকেটের উত্থান-পতনের এক উদাহরণে পরিণত করেছে। তার মন্তব্যগুলো ক্রিকেটের জটিলতা ও মিডল‑অর্ডার ব্যাটসম্যানের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে, যা ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।



