ইস্তাম্বুলে জুমা নামাজের পর টার্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা অঞ্চলে মানবিক সংকটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলি সরকারের পদক্ষেপকে প্রাচীন শাসকের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গাজায় শিশুদের কান্না ও কষ্ট বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে, তবু ইসরায়েল মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
এরদোয়ান বলেন, ধোঁয়া, বৃষ্টি ও ধূলিকণার মধ্যে বসবাসরত শিশুদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই; তাদের কাঁদা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠাতে তুরস্ক প্রস্তুত, তবে ইসরায়েলি নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তিনি তুরস্কের মানবিক উদ্যোগের বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তুরস্ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কন্টেইনারে খাবার, ওষুধ ও মৌলিক সামগ্রী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেলে তা বাস্তবায়িত হতে পারবে না।
এরদোয়ান এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী আজ হোক বা কাল, গাজায় বসবাসকারী নির্যাতিত জনগণকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
ইসরায়েলি সরকার বৃহস্পতিবার গাজায় ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে ডক্টর্স উইদাউট বর্ডারস (ডব্লিউবিএস)ও অন্তর্ভুক্ত। এই নিষেধাজ্ঞা মানবিক সাহায্যের সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তুরস্কসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর পথ খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিনিধি এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলকে ত্বরিতভাবে নীতি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।
তুরস্কের এই মন্তব্য এবং গাজা সংকটের প্রতি তার সক্রিয় ভূমিকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, এবং গাজা পরিস্থিতি এই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে গাজা সংকট সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, যার মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবনা উপস্থাপন, মানবিক সহায়তার জন্য বহুপাক্ষিক সমন্বয় এবং ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চাপ সৃষ্টি করা অন্তর্ভুক্ত।
গাজা অঞ্চলে চলমান অবরোধের ফলে বেসামরিক জনগণের মৌলিক চাহিদা—খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা সেবা—অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগের বিস্তার, শিশুরা যথাযথ পুষ্টি না পাওয়া এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
এরদোয়ানের এই মন্তব্য গাজা সংকটের আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং মানবিক নীতির প্রতি তুরস্কের অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তিনি ইসরায়েলের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তুরস্কের মানবিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা ভবিষ্যতে গাজা অঞ্চলে সাহায্যের প্রবাহ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।



