ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, ৭০ বছর বয়সী, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে থেকে ছেড়ে আবার কারাগারে প্রবেশ করেছেন। তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে গৃহবন্দি আবেদন আদালতে প্রত্যাখ্যান করা হয়, ফলে তাকে সরাসরি কারাদণ্ড শুরু করতে বাধ্য করা হয়েছে।
বোলসোনারো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, যেখানে তার হার্নিয়া অপারেশন করা হয় এবং পরবর্তীতে হেঁচকি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি ডিএফ স্টার হাসপাতাল থেকে ফেডারেল পুলিশের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
ব্রাসিলিয়া থেকে এএফপি জানায়, গৃহবন্দি আবেদন প্রত্যাখ্যানের রায়ে বিচারক আলেক্সান্দ্রে দে মোরাইস উল্লেখ করেন যে, অভিযোগকারী পক্ষের দাবি অনুযায়ী বোলসোনারোর স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি ঘটেনি। তাই গৃহবন্দি শর্তে রেহাই দেওয়া সম্ভব নয়।
বোলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দেশের শীর্ষ পদে ছিলেন এবং ২০২২ সালের নির্বাচনের ফলাফল উল্টানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়। সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে, যা ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।
নভেম্বর মাসে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকাকালীন বোলসোনারো তার নজরদারি ব্রেসলেট কাটার চেষ্টা করেন। তিনি সোল্ডারিং আয়রন ব্যবহার করে ব্রেসলেটটি ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন, ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। বোলসোনারো দাবি করেন, এই কাজটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ঘটেছে।
গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলও প্রত্যাখ্যান করে, ফলে তার শাস্তি কার্যকর হয়। আদালতের রায় অনুসারে, তার অপরাধের প্রমাণ স্পষ্ট এবং কোনো সামরিক নেতৃত্বের সমর্থন না থাকায় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
বোলসোনারো, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, এই বিচারকে “ডাইনী শিকার” বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে এটি তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বাধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। তার সমর্থকরা এই রায়কে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বোলসোনারোর কারাগারে ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যকে নতুন মোড় দিতে পারে। তার উপস্থিতি ডানপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভারের শাসনকালে বামপন্থী নীতি বজায় রাখার জন্য চাপ বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে বোলসোনারো কোনো আইনি আপিল বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বোলসোনারো ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল পুলিশ অধীনে একটি ছোট কক্ষে বন্দি আছেন, যেখানে তিনি তার শাস্তি সম্পন্ন করবেন। তার কারাবাসের পরবর্তী ধাপ এবং সম্ভাব্য রিলিজের শর্তাবলী এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই ঘটনা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।



