আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নাম লেখার পর্যায়ে আটটি জেলায় মোট ৩৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পর্যালোচনার সময় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রত্যাখ্যানের কারণ প্রধানত নথিপত্রের অসম্পূর্ণতা, স্বাক্ষরের বৈষম্য এবং সম্পদ ঘোষণার ঘাটতি। এই সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ রিটার্নিং অফিসারদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনের শেষের দিকে প্রার্থীদের তালিকায় বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রত্যাখ্যানের তালিকায় জামায়াতে ইসলামী সহকারী সচিব জেনারেল এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আজাদ এবং নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অন্তর্ভুক্ত। আজাদ কক্সবাজার-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তার এক মামলার প্রাসঙ্গিক নথি সঠিকভাবে জমা না করার কারণে রিটার্নিং অফিসার এম.এ. মান্নান তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। তার আইনজীবী মো. আরিফ উল্লেখ করেছেন যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
মান্না বগুড়া-২ আসনে তার মনোনয়নপত্র জমা দিলেও, তার মামলাসমূহের তথ্য অসম্পূর্ণ এবং আর্থিক বিবরণীতে অসঙ্গতি পাওয়া যাওয়ায় রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমান তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শারিফুল ইসলাম জিন্নাহও সম্পদ ঘোষণার ফর্ম সংযুক্ত না করার জন্য প্রত্যাখ্যানিত হন। উভয় ক্ষেত্রেই নথিপত্রের ঘাটতি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব মো. মাহিউদ্দিন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে নাম লেখালেও, সমর্থনকারী ভোটারদের স্বাক্ষরের এক শতাংশে বৈষম্য পাওয়া যাওয়ায় রিটার্নিং অফিসার সাইদা নুরমাহাল আশরাফি তার আবেদন বাতিল করেন। একই জেলায় মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে দুইজন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী, মীর সরাফত আলী সোপু এবং মোমিন আলী, স্বাক্ষরের অনিয়মের কারণে অযোগ্য ঘোষিত হয়।
পাবনা-১ আসনে স্বাধীন প্রার্থী খায়রুন নাহার মিরু এবং ইউনুস আলি ভোটার স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করার জন্য প্রত্যাখ্যানিত হন। একই সঙ্গে নটোরে-১, নটোরে-২ এবং নটোরে-৪ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী স্বাক্ষরের ত্রুটির ভিত্তিতে তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যা জেলা নির্বাচন অফিসার মো. নাজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি রংপুর বিভাগের সহকারী সংগঠন সচিব আবদুল খালেক ভোটার স্বাক্ষরের নকলের অভিযোগে অযোগ্য ঘোষিত হন; এই সিদ্ধান্ত সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকী নিশ্চিত করেন। স্বাক্ষরের নকলের অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলায় মোট বারোজন প্রার্থী, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামের ইউসুফ সোহেল এবং জাতীয় পার্টির কিছু প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত, তাদের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইউসুফ সোহেলকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগে অযোগ্য ঘোষিত করা হয়েছে, যা রিটার্নিং অফিসারদের সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ব্যাপক প্রত্যাখ্যানের ফলে নির্বাচনী ল্যান্ডস্কেপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীরা আপিলের মাধ্যমে পুনরায় মনোনয়ন পেতে চাইতে পারেন, তবে সময়সীমা কমে যাওয়ায় তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়বে। এছাড়া, প্রধান দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় শূন্যস্থান তৈরি হলে স্বাধীন ও ছোট দলগুলোর জন্য সুযোগ বাড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত উল্লেখ করেছে যে পরবর্তী পর্যায়ে সকল আপিলের বিষয় দ্রুত সমাধান করা হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারাভিযান পুনর্গঠন করবে এবং ভোটারদের কাছে নতুন প্রার্থীর পরিচয় তুলে ধরবে।



