পাকিস্তানের সাইম আয়ুব, বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় টি২০ অল‑রাউন্ডার, বাঙালি টাইটানসের সঙ্গে নেট সেশনের পর বাংগ্লাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)‑এর মাঠে এক সাক্ষাৎকারে তার খেলার ধারা বদলানোর পেছনের কারণগুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি বললেন, পিএসএল এবং কোচিং স্টাফের সহায়তায় তিনি ওপেনার থেকে অল‑রাউন্ডারে রূপান্তরিত হয়েছেন।
দুই বছর আগে আয়ুবকে যখন ওপেনার হিসেবে দেখা যেত, তখনই তার সঙ্গে প্রথমবারের মতো এই ধরনের আলাপ হয়। আজ তিনি একই প্ল্যাটফর্মে অল‑রাউন্ডার হিসেবে উপস্থিত, যা তার ক্যারিয়ারের দ্রুত অগ্রগতির সাক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, দুই‑তিন বছর যেন দু’দিনের মধ্যে পার হয়ে গেছে এবং গতবারের বিপিএল সাক্ষাৎকারের কথা আজও তাজা।
রূপান্তরের পথে তিনি প্রথমে ক্লাব ক্রিকেটে সামান্য বোলিং করতেন, তবে পিএসএল‑এর পেশাওয়ার দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তার বোলিং দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। পাকিস্তান জাতীয় দলে নির্বাচিত হওয়ার পর কোচরা তার ওপর আস্থা রাখে এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলেন।
আয়ুব স্বীকার করেন, তিনি কখনোই এত ভালো বোলিং পরিসংখ্যানের প্রত্যাশা করেননি। তার সাফল্যের মূল কারণ তিনি কোচদের কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের সম্পূর্ণ নিবেদনকে দেন। তিনি বলেন, দলকে সহায়তা করতে পারলে নিজের প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক।
পাওয়ারপ্লে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি দলের পরিকল্পনাকে স্পষ্টভাবে অনুসরণ করেন। পাকিস্তান দলের কৌশল অনুযায়ী নির্দিষ্ট জোনে বোলিং করা হয় এবং সেই জোনের জন্য নেট সেশনে বিশেষ টেকনিক্যাল কাজ করা হয়। এই প্রস্তুতি ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে, যখন ব্যাটসম্যানের চলাচল পড়ে তখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
ম্যাচে তিনি ব্যাটসম্যানকে ভয় দেখাতে নয়, বরং চাপের মধ্যে রাখতে চান। তাই তিনি কোনো শটের ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বোলিং চালিয়ে যান, যা তাকে পাওয়ারপ্লে পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
দুইটি দক্ষতা—পেস এবং অফ‑স্পিন—একইভাবে ব্যবহার করার পদ্ধতি তিনি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও কোচের নির্দেশনার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন। নেট সেশনে উভয় শৈলীর জন্য নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করে তিনি নিজের গেমের বহুমুখিতা বাড়িয়ে তুলেছেন।
বিপিএল‑এর বর্তমান মৌসুমে সাইম আয়ুব সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলছেন এবং তার পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করছে। তিনি ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে ইচ্ছুক, তবে তার মূল লক্ষ্য দলের সাফল্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
আয়ুবের কথায় স্পষ্ট যে, পিএসএল‑এর সুযোগ, কোচদের বিশ্বাস এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমই তাকে ওপেনার থেকে শীর্ষ অল‑রাউন্ডারে রূপান্তরিত করেছে। তার এই অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
সারসংক্ষেপে, সাইম আয়ুবের ব্যাটিং‑বোলিং উভয় দিকেই উন্নতি তার ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দলের প্রতি অঙ্গীকারের ফল। তিনি এখন টি২০ ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় অল‑রাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান দৃঢ় করে গেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অবদান রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।



