বহু দশকের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে কেট উইনস্লেট তার প্রথম পরিচালনায় ‘গুডবাই জুন’ নামের পারিবারিক নাটক উপস্থাপন করেছেন। এই ছবিতে তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন এবং হেলেন মিরেনকে ১৬ দিনের জন্য প্রধান চরিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। মোট সাত সপ্তাহের শুটিং সময়সূচিতে সাতজন শিশুশিল্পী এবং প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতাদের সমন্বয় করা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
শুটিংয়ের সময়সূচি টাইট ছিল, তবে উইনস্লেট কোনো কাজ বাদ না দিয়ে সবকিছু সম্পন্ন করার গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনো কিছু বাদ দিতে চাইনি এবং তা সম্ভব হয়েছে, এ নিয়ে আমি গর্বিত।” ছবির নির্মাণে তিনি ক্যামেরার সামনে এবং পেছনে উভয় ভূমিকা পালন করে একসাথে সমন্বয় বজায় রাখতে হয়েছিল।
শুটিংয়ের সময় শিশুশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করেছিল, তবে উইনস্লেটের মতে, এই অভিজ্ঞতা তাকে নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “শিশুদের সঙ্গে কাজ করা, বড়দের সঙ্গে কাজ করা, ক্যামেরার সামনে ও পেছনে থাকা—সবই একসাথে সামলাতে হয়েছে, যা দ্রুতই মানিয়ে নিতে হয়।” এই সবের মাঝেও তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিকে উপভোগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আবার পরিচালনা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
উইনস্লেটের ত্রিশ বছরের বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ার এবং শিল্পের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেছিলেন, “বছরের পর বছর গড়ে ওঠা ভালো সম্পর্কগুলো আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান ছিল, কারণ আমাদের চারপাশে সমর্থন ও হাস্যরসের পরিবেশ দরকার ছিল।” এই সমর্থনশীল পরিবেশই ছবির সাফল্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘গুডবাই জুন’ ছবিতে মিরেনের স্বামী চরিত্রে টিমোথি স্পলকে নিয়োগ করা হয়েছে। স্পলকে এই প্রকল্পে যুক্ত করতে উইনস্লেটের সঙ্গে তার পূর্বের কাজের স্মৃতি সহায়তা করেছে; তিনজন প্রায় ত্রিশ বছর আগে হ্যামলেটের একটি প্রযোজনে একসঙ্গে কাজ করেছেন। স্ক্রিপ্টটি উইনস্লেটের পুত্র জো অ্যান্ডার্স রচনা করেছেন, যা স্পলকে প্রকল্পে যোগ দিতে প্রেরণা দেয়। স্পল উল্লেখ করেছেন, “আমি জানতাম তিনি একজন বিশেষ ব্যক্তি এবং তার কাজের প্রতি সম্মান আছে, তাই আমি এই ছবিতে অংশ নিতে পছন্দ করেছি।”
শুটিং শেষ হওয়ার পর নিউ ইয়র্কে নেটফ্লিক্সের এই ছবির বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে ছবির সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। উইনস্লেটের নেতৃত্বে ছবিটি দ্রুত শুটিং সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও, তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা পুরো টিমকে একত্রে কাজ করতে সহায়তা করেছে। তিনি ভবিষ্যতে আবার পরিচালনা করতে চাইলেও, তার প্রধান লক্ষ্য হল শিল্পের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নতুন গল্পকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা।
‘গুডবাই জুন’ ছবির নির্মাণে হেলেন মিরেনের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি, টিমোথি স্পল, এবং শিশুশিল্পীদের সমন্বয় একটি জটিল কিন্তু সফল প্রক্রিয়া হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। উইনস্লেটের পরিচালনায় ছবিটি পরিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা এবং জীবনের উত্থান-পতনকে সুন্দরভাবে চিত্রিত করেছে। তার প্রথম পরিচালনা কাজের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপভোগের সুযোগ দেবে।
এই ছবির মাধ্যমে কেট উইনস্লেটের পরিচালনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে এবং তার দীর্ঘদিনের অভিনয় অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি আবার পরিচালনা করতে চাইবেন, এমন তার ইচ্ছা শিল্পের নতুন সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



