ইংরেজি নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়ারের জীবনের অল্প সময়ের ঘটনাকে ভিত্তি করে নির্মিত ‘হ্যামনেট’ ছবিতে জেসি বাকলি ও পল মেসক্যাল মুখ্য ভূমিকায় আছেন। এই চলচ্চিত্রটি অস্কার প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত এবং মানবিক অনুভূতির বিস্তৃত পরিসর—আনন্দ থেকে দুঃখ পর্যন্ত—দেখাতে চায়।
চিত্রের সূচনা হয় শেকসপিয়ার তরুণ বয়সে, যখন তিনি অ্যান হ্যাথাওয়ের আরেকটি নাম ‘অ্যাগনেস’‑এর সঙ্গে প্রেমে পড়েন। দম্পতি গড়ে তোলার পরপরই একটি দুঃখজনক ঘটনা তাদের ছোট পরিবারকে আঘাত করে, যা শেকসপিয়ারের পরবর্তী নাটক ‘হ্যামলেট’-এর মর্মবিন্দুতে রূপ নেয়।
‘হ্যামনেট’ ছবিতে অ্যাগনেসকে শুধুই শেকসপিয়ারের স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার মা, প্রেমিকা এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের দিকগুলোকে জোর দিয়ে দেখানো হয়েছে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিমকে শক্তিশালী করে।
জেসি বাকলি এই ভূমিকাকে তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, অ্যাগনেসের জটিলতা ও মানবিক দিকগুলোকে নিজের মধ্যে বসিয়ে অভিনয় করা একটি বিশাল সুযোগ। এই অনুভূতি তাকে চরিত্রের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করেছে।
‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রটি ম্যাগি ও’ফারেলের ২০২০ সালে প্রকাশিত একই নামের বেস্টসেলিং উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। উপন্যাসটি শেকসপিয়ারের ব্যক্তিগত জীবনের অজানা দিকগুলোকে উন্মোচন করে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা তা থেকে দৃশ্যমান রূপ দিয়েছেন।
জেসি বাকলির ক্যারিয়ার ২০০৮ সালে শুরু হয়, যখন তিনি বিবিসি ওয়ান ট্যালেন্ট শো ‘আইড ডু এনিথিং’‑এ অংশ নেন এবং ন্যান্সি চরিত্রের জন্য দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এরপর তিনি ‘ওয়াইল্ড রোজ’ ছবিতে দেশের গায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে বাফ্টা নোমিনেশন পান এবং ‘দ্য লস্ট ডটার’ ছবিতে মায়ের ভূমিকায় অস্কার নোমিনেশন অর্জন করেন।
‘হ্যামনেট’ ছবিতে অ্যাগনেস এবং তার সন্তান হ্যামনেটের মধ্যে গভীর সম্পর্ককে গল্পের মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সংযোগটি দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং চরিত্রের আবেগগত গভীরতা বাড়িয়ে দেয়।
অভিনয় প্রক্রিয়ায় জেসি বাকলি স্বীকার করেছেন যে তিনি মা না হওয়ায় এবং সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা ভয় ও উদ্বেগ অনুভব করেছিলেন। তবু তিনি বলেন, প্রেমের প্রকৃত অনুভূতি ও মানবিক বন্ধনের জ্ঞান তাকে চরিত্রটি সৎভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করেছে।
‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রটি অস্কার প্রার্থী তালিকায় উঠে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে এবং এটি জেসি বাকলির শিল্পী জীবনের নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দর্শকরা শেকসপিয়ারের অনুপ্রেরণামূলক গল্পের সঙ্গে মানবিক দুঃখ-সুখের সমন্বয় উপভোগ করার প্রত্যাশা করতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, ‘হ্যামনেট’ একটি ঐতিহাসিক চরিত্রের মানবিক দিককে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যাবে। চলচ্চিত্রের মুক্তি হলে শেকসপিয়ার প্রেমের গল্প এবং তার পরিবারিক ট্র্যাজেডি নতুন আলোকে দেখা যাবে।



