22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল ফখরুলের আয় ৭ বছরেই ৫৭,৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে

বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল ফখরুলের আয় ৭ বছরেই ৫৭,৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে

বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও-১ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নাম নিবন্ধন করার পর তার আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনী সময়ে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো তার আয় ও সম্পদের পরিবর্তন স্পষ্ট করে।

আবেদনপত্রে দেখা যায়, গত সাত বছরে ফখরুলের বার্ষিক আয় ৫৭,৭০০ টাকার সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১১.৮৩ লাখ টাকা। এই আয়ের মূল উৎসগুলো হল কৃষি, ব্যবসা, পরামর্শদাতা ফি, সম্মানী ও অন্যান্য আয়।

কৃষি থেকে ১.৮ লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে ১.৯৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যেখানে ব্যবসা মূলত থাকুরগাঁওয়ের হুরমতি আলি মার্কেটের শেয়ার থেকে আসে। পরামর্শদাতা হিসেবে দুইটি সংস্থার থেকে সম্মানী হিসেবে ৭.৯৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৭,৯০১ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে তার মোট আয় ছিল ১১.৩১ লাখ টাকা, যা থেকে বর্তমান আয় ৪,৯০০ টাকার পার্থক্য দেখা যায়। নথিতে উল্লেখ আছে, ফখরুল ৭৭ বছর বয়সী এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারী।

সম্পদের দিক থেকে তিনি পাঁচ একর কৃষিজমি ও দুইতলা পারিবারিক বাড়ির একটি অংশের মালিক। নগদে ১.২৬ কোটি টাকা এবং তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮২ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

গাড়ি, দশ ভোরি সোনা, গহনা এবং ডাবল-ব্যারেল বন্দুকের মতো চলমান সম্পদও তার তালিকায় রয়েছে, যদিও এই আইটেমগুলোর মূল্য নথিতে অজানা রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্যসমূহের মূল্য ১.৫ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১.৪ লাখ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফখরুলের বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলা দায়ের হয়েছে; এর মধ্যে ৪৭টি মামলায় রিলিফ পাওয়া গেছে এবং বাকি তিনটি মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদ প্রায় ২.৪৪ কোটি টাকা, যা স্বামীর ঘোষিত সম্পদের তুলনায় এক কোটি টাকার বেশি। চলমান সম্পদে ১.২১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ ভোরি সোনা অন্তর্ভুক্ত।

অচল সম্পদের মধ্যে ৫১.৮৪ লাখ টাকায় ক্রয়কৃত কৃষি ও অ-কৃষি জমি, থাকুরগাঁওয়ের ১২ দশমিক জমি যার মূল্য ৩৯.৭২ লাখ টাকা, এবং ঢাকা পুবচালের পাঁচ কাঠা প্লটের মূল্য ৮.৫৪ লাখ টাকা রয়েছে।

রাহাত আরা বেগমের গুলশান-২-এ ১,৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ২০.৫০ লাখ টাকা হিসেবে নথিতে উল্লেখ আছে।

বিএনপি বিরোধীরা এই প্রকাশকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেন, স্বচ্ছতা বাড়াতে এমন তথ্য প্রকাশ করা দরকার, তবে একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদের পার্থক্যকে ভোটারদের কাছে তুলে ধরা উচিত।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা ফখরুলের সম্পদের পরিমাণকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন এবং বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের তথ্য ভোটারদের সচেতনতা বাড়াবে।

নির্বাচনের আগে এই আর্থিক প্রকাশের ফলে থাকুরগাঁও-১ এলাকার ভোটারদের মধ্যে আলোচনা বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফখরুলের সম্পদ ও মামলার সংখ্যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে।

ভবিষ্যতে, যদি এই তথ্যগুলোকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নিজস্ব বিচার ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে ফলাফল।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments