সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানা রিসর্টের লা কনস্টেলেশন নামের পানশালায় ১ জানুয়ারি রাত ১২টার কাছাকাছি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। নতুন বছর উদযাপনের পার্টিতে উপস্থিত প্রায় দুইশতাধিক মানুষকে প্রভাবিত করে, অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৯ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো ফোয়ারা মোমবাতি সিলিংয়ের নিকটে থাকা কারণে আগুন লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
লা কনস্টেলেশন একটি বিলাসবহুল পানশালা, যেখানে স্কি রিসর্টের অতিথি এবং স্থানীয় বাসিন্দা উভয়ই নতুন বছরের উদযাপনে একত্রিত হন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ গান, নাচ এবং খাবারের আনন্দে মগ্ন থাকায় স্থানটি পূর্ণ ছিল। পার্টির মাঝামাঝি সময়ে শ্যাম্পেনের ফোয়ারা চালু করা হয়, যা সাধারণত উৎসবের সাজসজ্জার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মধ্যরাতের দিকে যখন শ্যাম্পেনের ফোয়ারা জ্বলে উঠল, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। মোমবাতি থেকে স্ফুলিঙ্গ সিলিংয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছায় এবং তা দ্রুত জ্বলে ওঠে। স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে সিলিংয়ের ফোম উপাদান জ্বলে গিয়ে অগ্নি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
অগ্নি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেক অতিথি সঠিক সময়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি। সংকীর্ণ দরজা এবং একসঙ্গে প্রায় দুইশতজন মানুষ বের হওয়ার চেষ্টা করার ফলে গলিতে জ্যাম সৃষ্টি হয়। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে অগ্নি পুরো পানশালাকে গ্রাস করে, ফলে বেশ কয়েকজনের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়।
স্থানীয় কৌসুলি বিয়াট্রিস পিলোদের মতে, শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো মোমবাতি এবং সিলিংয়ের ফোমের সংমিশ্রণই আগুনের মূল সূত্রপাতের কারণ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, মোমবাতি থেকে স্ফুলিঙ্গ সিলিংয়ের নিকটে পৌঁছানোর পরই অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। তবে তিনি এও জানান, এই ব্যাখ্যা এখনো অনুমানসাপেক্ষ এবং চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সিলিংয়ের ফোম উপাদান অগ্নি দ্রুত বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে। ফোমের গঠন ও ইনস্টলেশন পদ্ধতি তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
অধিক তদন্তে নির্ধারণ করা হবে, এই ঘটনার পেছনে অবহেলা, গাফিলতি বা কোনো অপরাধমূলক কাজের দায়িত্ব আছে কি না। যদি কোনো নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার সময় পানশালায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদেশি পর্যটক উভয়ই উপস্থিত ছিলেন। উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে সঙ্গীত, নাচ এবং খাবারের আনন্দে মত্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ড ঘটার ফলে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নি বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা উপস্থিত সবাইকে আতঙ্কিত করে। অগ্নিকাণ্ডের শিখা এক মুহূর্তে পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে দ্রুতই অগ্নিনির্বাপক দলকে ডাকা হয়।
বহু মানুষ দরজার দিকে ছুটে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে, তবে সংকীর্ণ গলিতে একসঙ্গে চলা মানুষজনের কারণে বেরিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুজন দ্রুত বেরিয়ে নিরাপদে রেহাই পায়, তবে অধিকাংশই অগ্নিকাণ্ডের তীব্র তাপে আটকে যায়।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আঘাতপ্রাপ্তদের ত্বরিত ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্ট, পোড়া এবং ধোঁয়া শ্বাসের ফলে শারীরিক ক্ষতি রয়েছে। চিকিৎসা দল দ্রুত কাজ করে, তবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও শিকারীর সংখ্যা বিবেচনা করে জরুরি সেবা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে।
অধিকর্তা এখনো ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনা করবে। প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে, যাতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এই ধরনের বড় আকারের অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। রিসর্টের ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে ফোম সিলিংয়ের পরিবর্তে অগ্নি-প্রতিরোধী উপকরণ ব্যবহার এবং শ্যাম্পেনের ফোয়ারা মোমবাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।



