দীপক তিজোরি এবং তার স্ত্রী শিবানী তিজোরি গৌরগাঁও‑পশ্চিমের গার্ডেন এস্টেট কো‑অপারেটিভ সমিতির বিরুদ্ধে ১২ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষ করে জয়ী হন। মুম্বাইয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অফ কো‑অপারেটিভ সোসাইটি, পি ডিভিশন, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সমিতির নির্দেশ বাতিলের আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সমিতি যে রক্ষণাবেক্ষণ ফি ও সুদ দাবি করছিল, তা অবৈধ বলে ঘোষিত হয়।
দীপক তিজোরি ২০১২ সালে সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তিনি বুমি সিটি কর্পোরেশনের পি ওয়ার্ডের আদেশের ভিত্তিতে দাবি করেন যে, সমিতি তার সদস্যপদ গৃহীত হওয়ার আগে ফি ধার্য করার অধিকার রাখে না। তবুও সমিতি ধারাবাহিকভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি করে এবং তিজোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বুমি সিটি কর্পোরেশনের আদেশ সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনা কমিটি তিজোরিকে পরিষ্কার না করা অর্থ পরিশোধের জন্য অনুরোধ করে চলেছিল। তিজোরি আদালতে আবেদন করে সমিতির আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি তোলেন। এই প্রক্রিয়ায় সমিতি তার হিসাবের বিশদ বিবরণ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গার্ডেন এস্টেট কো‑অপারেটিভ সমিতির নির্দেশ বাতিলের আদেশ দেন। রেজিস্ট্রারের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সমিতির কাছে কোনো বিস্তারিত হিসাবের বিবরণ না থাকায় বকেয়া অর্থ বা সুদ নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না। এছাড়া সমিতি তার নিবন্ধনের পূর্বে রক্ষণাবেক্ষণ ফি ধার্য করেছিল, যা আইনি দৃষ্টিতে অনুমোদিত নয়।
অধিকন্তু রেজিস্ট্রার উল্লেখ করেন যে, সমিতি মডেল বাইলজের ধারা অনুসারে রক্ষণাবেক্ষণ ফি সমানভাবে ভাগ করে না, ফলে তার দাবি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ঘাটতিগুলো সমিতির আর্থিক দায়িত্বের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। রেজিস্ট্রারের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সমিতি রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি আরোপ করতে পারে না।
বলিউড হাঙ্গামা সমিতির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বজ্রং জাধবের স্বাক্ষরিত নথি পেয়েছে, যেখানে দীপক ও শিবানী তিজোরির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বাতিলের নির্দেশ রয়েছে। এই নথি সমিতির আর্থিক দাবি ও শাস্তি উভয়ই রদবদল করে। ফলে তিজোরি দম্পতি আইনি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন।
দীপক তিজোরি এই জয়কে নিজের জন্যই নয়, সমজাতীয় সমস্যায় ভুগছেন এমন অন্যান্য রেসিডেন্সিয়াল সমিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেক সমিতি তাদের নিজস্ব নিয়ম তৈরি করে বাইলজ অনুসরণ করে না, ফলে বাসিন্দাদের ওপর অনধিকার চাপ সৃষ্টি হয়। তিজোরি নিজের আইনি জ্ঞানকে এই জয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিজোরি ২০১০ সালে গার্ডেন এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। সমিতির বাইলজ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই রক্ষণাবেক্ষণ ফি ধার্য করা যায়। তবে তিজোরি যখন সেখানে গৃহস্থালির কাজ শুরু করেন, তখন সমিতি এখনও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় ছিল এবং তবুও তাকে ফি দিতে বলা হয়। তিজোরি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এবং আইনি পথে সমাধান খোঁজেন।
ডেপুটি রেজিস্ট্রারের আদেশের ফলে গার্ডেন এস্টেট সমিতি আর রক্ষণাবেক্ষণ ফি ও সুদ আরোপ করতে পারবে না। তিজোরি ও শিবানীর বিরুদ্ধে আর কোনো আর্থিক দাবি থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত সমিতির আর্থিক নীতি ও বাইলজের প্রয়োগে একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
মডেল বাইলজ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই রক্ষণাবেক্ষণ ফি ধার্য করা যায় এবং তা সমানভাবে সকল সদস্যের মধ্যে ভাগ করা উচিত। সমিতির আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা না থাকলে, কোনো বকেয়া বা সুদ নির্ধারণ করা যায় না। এই নীতিগুলো রেজিস্ট্রার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই মামলার ফলাফল বাসিন্দাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। রেসিডেন্সিয়াল সমিতির সদস্যদের উচিত তাদের সমিতির আর্থিক নথি ও বাইলজের প্রয়োগ নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে আইনি পরামর্শ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। তিজোরির জয় অন্যদের জন্যও আইনি সচেতনতা বাড়ানোর একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।



