দ্যাংসিং শিবা ফিল্মস, কিংসমেন প্রোডাকশনস এবং জি স্টুডিওস যৌথভাবে ‘ফুলে’ শিরোনামের বায়োপিকের থিয়েটার মুক্তির তারিখ প্রকাশ করেছে। চলচ্চিত্রটি ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রদর্শনীতে আসবে, যা মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের ১৯৭তম জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বায়োপিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে জ্যোতিরাও ফুল এবং সাভিত্রীবাই ফুলের জীবন ও কর্মকে তুলে ধরা হবে। প্রখ্যাত অভিনেতা প্রতিক গাঁধি জ্যোতিরাও ফুলের ভূমিকায় এবং পাত্রালেখা সাভিত্রীবাই ফুলের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। দুইজনই ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে ভারতের শিক্ষা ও সমতার জন্য যে বিপ্লবী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে।
দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অনন্ত মহাদেবন, যিনি পূর্বে সামাজিক বিষয়ক চলচ্চিত্রে প্রশংসিত কাজের জন্য পরিচিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্পটি ভারতের অন্যতম সামাজিক সংস্কারককে সম্মান জানাতে একটি সাদাসিধে উদ্যোগ। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই গল্পটি শুধু ঐতিহাসিক তথ্য নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা যা অতীতের দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলবে।
‘ফুলে’ চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী জ্যোতিরাও ও সাভিত্রীবাই ফুলের শিক্ষামূলক উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে। ১৮৪৮ সালে পুণে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মেয়েদের স্কুল, যা ভারতীয় সমাজে লিঙ্গ ও বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত, তা চলচ্চিত্রে বিশদভাবে চিত্রিত হবে। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলমান সামাজিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করা এই দম্পতির প্রচেষ্টা, আধুনিক ভারতের ভিত্তি গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রকাশনা অনুসারে, চলচ্চিত্রের পোস্টারটি গত বছর জ্যোতিরাও ফুলের ১৯৬তম জন্মবার্ষিকীর উপলক্ষে উন্মোচিত হয়েছিল। পোস্টারটি দম্পতির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে শিল্পময়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রশংসা পেয়েছে এবং দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।
সামাজিক মিডিয়ায় ৩ জানুয়ারি, সাভিত্রীবাই ফুলের জন্মদিনে, চলচ্চিত্রের নির্মাতারা মুক্তির তারিখের ঘোষণা দিয়ে পোস্ট শেয়ার করেন। এই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ১১ এপ্রিলের তারিখটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তা সাভিত্রীবাই ফুলের জন্মদিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করবে।
অভিনেত্রী পাত্রালেখা চলচ্চিত্রে সাভিত্রীবাই ফুলের চরিত্রে অভিনয় করার গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাভিত্রীবাই এবং জ্যোতিরাও একসঙ্গে আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন ও সামাজিক সমতার পথে অগ্রগতি ঘটিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনীকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তিনি অনুভব করেন।
‘ফুলে’ চলচ্চিত্রের লক্ষ্য কেবল বিনোদন নয়, বরং দর্শকদের মধ্যে সামাজিক সংস্কার ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নির্মাতারা আশা প্রকাশ করেছেন, চলচ্চিত্রটি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, চলচ্চিত্রের শুটিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। মুক্তির পূর্বে আরও কিছু প্রচারমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে বিশেষ প্রদর্শনী ও শিক্ষামূলক কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
‘ফুলে’ চলচ্চিত্রের মুক্তি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বর্ণনাশৈলীর সঙ্গে মিশিয়ে একটি সমসাময়িক দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশের সামাজিক সংস্কারকরা কীভাবে আজকের সমাজে প্রভাব ফেলতে পারেন, তা পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেবে।
বিনোদন ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্পাদক হিসেবে, পাঠকদের জানাতে চাই যে ‘ফুলে’ চলচ্চিত্রটি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে এবং শিক্ষার সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তা বহন করবে। আগ্রহী দর্শকরা ১১ এপ্রিলের তারিখে থিয়েটার ঘরে এই ঐতিহাসিক যাত্রা উপভোগ করতে পারেন।



