ঢাকার মূল কাঁচা বাজার—মৈতিঝিল, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ি—এ শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে ১৭টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, ফলে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি থেকে বের হননি। এই পরিস্থিতি সরবরাহের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও বিক্রয় কমে যাওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে সবজির মোট সরবরাহ যথেষ্ট, তবু তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা ঘরে থেকে রান্না করার দিকে ঝুঁকছেন। সেগুনবাগিচা বাজারে এক ক্রেতা জানান, “ছুটির দিনেও ঠান্ডার ভয় পেয়ে বাজারে না গিয়ে, বাড়িতে যা আছে তা দিয়ে রান্না করব।” একই সময়ে, তিনি জুমার নামাজের সময় মরিচ ও শসা কেনার কথা উল্লেখ করেন, তবে তা তৎক্ষণাৎ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
সবজির দাম সামগ্রিকভাবে কমার প্রবণতা দেখলেও শসা ও মরিচের দাম উল্টো দিকে গতি পেয়েছে। সেগুনবাগিচার বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিমের মতে, শসার দাম একদিনের মধ্যে ৪০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় বেড়েছে। একই সময়ে, মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে; কিছু বিক্রেতা শসা ৪০ টাকায় বিক্রি করলেও, আজকের দাম ৯০ টাকার কাছাকাছি, আর কিছু বিক্রেতা সকালবেলায় ১০০ টাকাও দাবি করছেন।
যাত্রাবাড়ি বাজারে বিভিন্ন জাতের শিমের দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে। বিচিযুক্ত শিমের দাম ৮০ টাকা, নলডাঙ্গা শিমের দাম ৫০ টাকা, আর বিচি ছাড়া শিমের দাম ৩০ টাকা। বিক্রেতা আবুল হাশেম উল্লেখ করেন, শীতের কারণে গ্রাহকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রয় হ্রাস পেয়েছে, যদিও শুক্রবারই সর্বাধিক বিক্রয় হয়। তিনি বলেন, “শুক্রবারই বেশি বিক্রি হয়, তবে আজ ঠান্ডার কারণে গ্রাহক কম এসেছে।” নতুন আলুর দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল, যেখানে এক মাস আগে একই আলুর দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ছিল।
টমেটোর দামও শীতের প্রভাব দেখাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে টমেটোর দাম ১২০ টাকা ছিল, তবে গত সপ্তাহে তা ৭০‑৮০ টাকায় নেমে আসে। তবে শুক্রবার আবার দাম ১০০ টাকায় ফিরে এসেছে। এই ওঠানামা গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের চাহিদার পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা এবং শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা গ্রাহকের চলাচলকে সীমিত করেছে, ফলে বিক্রয় পরিমাণে প্রভাব পড়েছে। যদিও সরবরাহের দিক থেকে কোনো বড় ঘাটতি নেই, তবে শসা, মরিচ ও টমেটোর মতো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ার ফলে সামগ্রিক বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিক্রেতারা ভবিষ্যতে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে গ্রাহকের আগমন বাড়বে এবং দাম স্থিতিশীল হবে বলে আশাবাদী, তবে শীতের দীর্ঘায়ু এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত শৈত্যপ্রবাহের ঝুঁকি এখনও বজায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, শীতকালে গ্রাহকের চাহিদা কমে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মূল পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বাজারে শসা ও মরিচের মতো উচ্চ চাহিদার পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে কৃষক ও পরিবহন সংস্থার সমন্বয় জরুরি, যাতে দাম অতিরিক্ত উত্থান না পায়। একই সঙ্গে, গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্পের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা দরকার, যাতে শীতের মৌসুমে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, শীতের তীব্রতা এবং শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা ঢাকার কাঁচা বাজারে গ্রাহকের উপস্থিতি কমিয়ে দিয়েছে, যদিও সরবরাহ যথেষ্ট। শসা ও মরিচের দাম বাড়ার ফলে বাজারে মূল্যবৈষম্য দেখা দিচ্ছে, আর টমেটো ও আলুর দামও পরিবর্তনশীল। বিক্রেতারা আশা করছেন, শীতের শেষের দিকে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে গ্রাহকের আগমন বাড়বে এবং দাম স্থিতিশীল হবে, তবে শীতের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং অতিরিক্ত শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বাজারের ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে।



