বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০২৬ সালের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের পর, দেশের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পাকিস্তানের সঙ্গে নির্ধারিত। এই সিরিজে তিনটি টি-২০ ম্যাচের পরিকল্পনা ছিল, তবে স্থানীয় প্রিমিয়ার লিগ (পিএসএল) চলাকালীন সময়ে তা দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ ১২ মার্চ, দ্বিতীয়টি ১৪ মার্চ এবং তৃতীয়টি ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই তিনটি ম্যাচের পর, পাকিস্তান দল ১৭ মার্চ দেশে ফিরে যাবে। একই মাসে, ২৬ মার্চ পিএসএল শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হবে ৩ মে পর্যন্ত, এবং টুর্নামেন্টের পরপরই পাকিস্তান আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে।
পিএসএল শেষ হওয়ার পর, পাকিস্তান দলের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ শুরু হবে, যা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। দুটি টেস্ট ম্যাচের শুরুর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৮ মে এবং ১৬ মে, যা দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্টের মাঝখানে, এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের সফর নির্ধারিত। নিউজিল্যান্ড দল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচের জন্য বাংলাদেশে আসবে। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, আর টি-২০ সিরিজের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল, এবং ২ মে।
জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া দল দেশের স্বাগত পাবে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো ৫, ৮ ও ১১ জুন অনুষ্ঠিত হবে, আর টি-২০ সিরিজের ম্যাচগুলো ১৫, ১৮ ও ২০ জুন নির্ধারিত। এটি ২০২১ সালের পর অস্ট্রেলিয়া দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর, যা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টি-২০ সিরিজের পর, আগস্টে অস্ট্রেলিয়া দল দেশে ফিরে দুটি টেস্ট ম্যাচের জন্য আসবে। এই টেস্টগুলোও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে গণ্য হবে, যা দেশের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে।
সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের সঙ্গে সিরিজ নির্ধারিত। যদিও মূল সংবাদে সিরিজের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই, তবে এটি গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া সিরিজের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যাবে। ভারতের সঙ্গে সিরিজের অন্তর্ভুক্ত থাকবে ওয়ানডে এবং টি-২০ ফরম্যাট, যা দেশের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।
বছরের শেষের দিকে, পশ্চিম ইন্ডিজের দলও বাংলাদেশে সফর করবে, যদিও নির্দিষ্ট ম্যাচের ফরম্যাট ও তারিখ সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই সফরটি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে মোট ছয়টি সফর হবে, যেখানে পাঁচটি ভিন্ন দল অংশ নেবে। এই সফরগুলোতে মোট ৪টি টেস্ট, ১২টি ওয়ানডে এবং ৯টি টি-২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টেস্ট ম্যাচগুলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, আর ওয়ানডে সিরিজগুলো ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে পরিকল্পিত।
এই সূচি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বোর্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক টিমের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা স্থানীয় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়াবে এবং ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবে, যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ ফরম্যাটের সমন্বয়ে বিভিন্ন শীর্ষ দল দেশের স্বাগত পাবে। এই সিরিজগুলো দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে নতুন স্তরে নিয়ে যাবে।



