বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই‑ব্লক ১০ নম্বর সড়কে বুধবার রাত প্রায় ১০ টায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি অজানা গোষ্ঠী গাড়ি আটকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে গাড়ি থামিয়ে ‘মব’ গঠন করা হয় এবং নাঈমকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটির সূচনা হয় যখন নাঈমের গাড়ি একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ধাক্কা খাওয়ার পর মোটরসাইকেল চালকসহ কিছু অজ্ঞাত যুবক গাড়ি থেকে নাঈমকে নামিয়ে, গোষ্ঠী গঠন করে তাকে মারধর করে। গাড়িটিও ভেঙে ফেলা হয়।
নাঈমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রাকিবুল জানান, ধাক্কা ঘটার পর নাঈমকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। রাকিবুলের ফোনে নাঈমের গাড়ি না ফিরে দেখার পর তিনি স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তা কর্মী নাঈমকে মারধর করে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়ে, রাকিবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নাঈমের খালাতো ভাই তিন দিন আগে পাবনা জেলার তার গ্রাম বাড়িতে একই রকম আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। সেই আক্রমণের পর থেকে নাঈমকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে পরিবার জানায়।
রাকিবুল আরও জানান, নাঈমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের হয়েছিল, যেখানে পাবনা জেলার তিনজন পরিচিত ব্যক্তি অভিযুক্ত ছিলেন। ছয়-সাত মাস আগে মিরপুরে একই গোষ্ঠী গঠন করে ওই তিনজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। পরে সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে তারা মিরপুর থানা থেকে পাবনা থানায় হস্তান্তরিত হন এবং সেখানকার পুলিশই তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
বসুন্ধরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহ করে হুমকির সূত্র অনুসন্ধান করছে। ক্যামেরা ফুটেজ থেকে গোষ্ঠীর গঠন, গাড়ি আটকে রাখা এবং নাঈমের ওপর হিংসা করা ব্যক্তিদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ভাটারা থানার ওয়ান-সিনিয়র অফিসার মো. ইমাউল হক প্রথম আলোকে জানান, তদন্তের মূল দিক হল সিসিটিভি রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ। সন্দেহভাজনরা গ্রেফতার হলে হত্যার প্রকৃত কারণ ও পটভূমি স্পষ্ট হবে।
পুলিশের মতে, গোষ্ঠী গঠন করে গাড়ি আটকে রাখা, নাঈমকে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলা এবং গাড়ি ধ্বংস করা—all এই কাজই ‘মব’ (মোব) সৃষ্টি করার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের হিংসা অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ রয়েছে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার পাবনা জেলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সামগ্রিকভাবে, নাঈম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডে গোষ্ঠী গঠন, গাড়ি আটকে রাখা এবং শারীরিক হিংসা অন্তর্ভুক্ত, এবং তদন্তে সিসিটিভি রেকর্ডের ওপর নির্ভর করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



