চীনা বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেত্রী জিং লুসি সম্প্রতি আইটিভি’র থ্রিলার ‘রেড আই’‑এর দ্বিতীয় সিজন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি কোরিয়ান ভাষা শিখতে সময় ব্যয় করছেন এবং একই সঙ্গে কোরিয়ান ড্রামা দেখার মাধ্যমে নতুন গল্পের জগতে ডুবে গেছেন। লুসি জানিয়েছেন যে কোরিয়ান ভাষা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ভাষাগুলোর একটি, তবে সাম্প্রতিক কোরিয়ান ড্রামা দেখার এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ভ্রমণের পর তিনি এই ভাষা শেখার পথে অগ্রসর হয়েছেন।
কোরিয়ান সিরিজে তিনি এমন চরিত্রগুলো দেখেছেন যাঁরা তার মতোই এশীয় চেহারার, যা তাকে তাজা অনুভূতি দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আগে ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’‑এর মতো এক বড় হিটের পরেও এশীয় মুখের প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল, আর এখন কোরিয়ান কন্টেন্টে নিজের মতোই চরিত্রের উপস্থিতি তাকে নতুন আশার আলো দেখায়।
২০১৮ সালে ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ ছবিতে তিনি অ্যামান্ডা “ম্যান্ডি” লিং চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে হেনরি গল্ডিং‑এর নিক ইয়ং‑এর এক্স‑গার্লফ্রেন্ডের ভূমিকা ছিল তার। ঐ চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় প্রতিনিধিত্বের একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়, বিশ্বব্যাপী ২৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এবং ২০১০‑এর দশকের সর্বোচ্চ আয়কারী রোমান্টিক কমেডি হিসেবে গর্ব করে।
তবুও লুসি যুক্তরাজ্যের টেলিভিশনে এশীয়‑নেতৃত্বাধীন প্রকল্পের সংখ্যা খুবই কম দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও আমেরিকায় এশীয় কন্টেন্টের উত্থান স্পষ্ট, যুক্তরাজ্যে একই রকম পরিবর্তন এখনও দেখা যায় না, যার কারণ তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। এই পার্থক্য তার জন্য একটি প্রশ্নের মতো রয়ে গেছে।
ব্রিটিশ টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় থ্রিলার ‘রেড আই’‑এর প্রথম সিজন ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং তা আট মিলিয়ন দর্শককে সরাসরি টিভিতে আকৃষ্ট করে, পাশাপাশি আইটিভি এক্সে ২৯.৩ মিলিয়ন স্ট্রিমিং রেকর্ড করে। লুসি সিরিজে মেট্রোপলিটন পুলিশে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট হানা লি চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি দৃঢ়সংকল্প ও সাহসিকতার প্রতীক। প্রথম সিজনে তিনি ড. ম্যাথিউ নোলান (রিচার্ড আরমিটেজ অভিনীত) এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য কাজ করেন, যেখানে নোলানকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রীয় কাহিনীর মূল।
দ্বিতীয় সিজনটি লুসি “একটি নিখুঁত বিঞ্জ‑ফেস্ট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই সিজনে হানা লি এবং নোলান আরও জটিল ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত এবং চরিত্রের মানসিক শক্তি পরীক্ষা করে। সিরিজের দ্রুতগতি এবং উত্তেজনাপূর্ণ প্লট দর্শকদের ধারাবাহিকভাবে স্ক্রিনে আটকে রাখে, ফলে বিঞ্জ‑ওয়াচিংয়ের জন্য এটি আদর্শ পছন্দ হয়ে উঠেছে।
‘রেড আই’ ছাড়াও লুসি ‘গ্যাংস অব লন্ডন’ সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা তার ব্রিটিশ টেলিভিশন ক্যারিয়ারকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। তার বহুমুখী কাজের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করছেন, যা দর্শকদের কাছে তার শিল্পী হিসেবে বহুমুখিতা তুলে ধরে।
লুসি জোর দিয়ে বলেন যে, স্ক্রিনে বৈচিত্র্যময় মুখের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য নতুন রোল মডেল তৈরি করে। কোরিয়ান কন্টেন্টের উত্থান এবং তার নিজের অভিজ্ঞতা তাকে আশাবাদী করে তুলেছে যে, যুক্তরাজ্যের মিডিয়ায়ও শীঘ্রই এশীয় গল্পের জন্য বেশি সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আশা করেন, হলিউডে ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’ যে পরিবর্তন এনেছে, তা যুক্তরাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রেও অনুকরণীয় হবে।
‘রেড আই’ সিজন ২ যখন দর্শকদের মন জয় করছে, লুসি বিশ্বাস করেন যে গুণগত গল্প বলার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্বের সমন্বয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের টেলিভিশনে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করবে। তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও এশীয় শিল্পীর জন্য দরজা খুলে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত স্ক্রিনে আরও সমৃদ্ধ ও বহুমুখী কন্টেন্টের জন্ম দেবে।



