চেরিয়েন ডাবিসের পরিচালিত ও অভিনীত ‘All That’s Left of You’ চলচ্চিত্রটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি ৬ তারিখে পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে। এই কাজটি প্রথমবার স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে বহু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঘুরে বেড়েছে, তবে মূলধারার বিতরণকারী খুঁজে পেতে দীর্ঘ সংগ্রামকে অতিক্রম করতে হয়েছে।
স্যান্ড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার সময় চলচ্চিত্রটি ইক্লেস থিয়েটারে বিশেষ স্লট পায় এবং দর্শকদের তালি-তালির সঙ্গে স্বাগত জানায়। সমালোচকরা চলচ্চিত্রের বর্ণনা ও পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে, যা ডাবিসের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
প্রথম উৎসবের পর থেকে ‘All That’s Left of You’ ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে, তবুও ডাবিস কয়েক মাসের জন্য বিতরণ চুক্তি না পেয়ে হতাশা অনুভব করেন। তিনি মূলধারার বিতরণকারী খোঁজার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা তিনি পরে স্বীকার করেন যে, প্যালেস্টিনীয় চলচ্চিত্রের জন্য তা সহজ নয়।
বাজারের জটিলতা উপলব্ধি করে ডাবিস স্বয়ং বিতরণ শিখতে সিদ্ধান্ত নেন এবং ওয়াটারমেলন পিকচার্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। এই বিতরণকারী সংস্থা নিজেকে ‘সৃজনশীল প্রতিরোধে ভিত্তিক’ বলে পরিচিত, যা ডাবিসের রাজনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ওয়াটারমেলন পিকচার্সের সহায়তায় চলচ্চিত্রটি টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসবে পুনরায় মঞ্চ পায় এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপরের পরিকল্পনা ছিল ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন উৎসবে অংশগ্রহণ, যা শেষ পর্যন্ত পাম স্প্রিংসের আমন্ত্রণে পৌঁছায়।
‘All That’s Left of You’ ১৯৪৮ সালের নাকবা, অর্থাৎ প্যালেস্টাইনের জনগণের স্থানচ্যুতি ও বঞ্চনার ঘটনাকে এক পরিবারের জীবনের মাধ্যমে চিত্রিত করে। চলচ্চিত্রে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের আক্রমণের ফলে পরিবারটি যে সহিংসতার শিকার হয়, তা বাস্তবিক ও সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি ও প্যালেস্টাইনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমালোচনামূলক স্বীকৃতি পেয়েছে, তবে মূলধারার সিনেমা হল ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রবেশ এখনও সীমিত। এই পরিস্থিতি শিল্পের সামগ্রিক কাঠামোর সমস্যাকে তুলে ধরে, যেখানে অনেক চলচ্চিত্র দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে না।
ডাবিসের মতে, চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা এমন যে, সব ধরনের কাজই দর্শকের সামনে আসতে সংগ্রাম করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসায়িক মডেলটি এখনো কার্যকর নয় এবং এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন। এই উপলব্ধি তাকে নিজের পথে চলতে এবং বিতরণে স্বনির্ভর হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
চিত্রনাট্যের মূল ধারণা ডাবিসের মনের মধ্যে ২০১৪ সালে উদ্ভূত হয়। তিনি নাকবার মানবিক দুঃখ ও সামাজিক প্রভাবকে বিশ্বজনীনভাবে জানাতে চেয়েছিলেন, যাতে নতুন প্রজন্মের মানুষও এই ইতিহাসের গুরুত্ব বুঝতে পারে। পাম স্প্রিংসের মঞ্চে এই গল্পের পুনরায় উপস্থাপন ডাবিসের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে পূর্ণ করে।



