দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ দলের তালিকায় ১৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে গত বছর ভারতের সিরিজে আঘাতের কারণে অনুপস্থিত কাগিসো রাবাদা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে গত দুই মৌসুমে আইপিএল-এ প্রভাবশালী পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত তরুণ ব্যাটসম্যান ট্রিস্টান স্টাবসকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের গঠন ও কৌশল নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
দলীয় ক্যাপ্টেন হিসেবে অয়ডেন মার্ক্রাম, কোয়েন্টিন ডি কক, ডিউয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ডোনাভান ফেরেইরা, টনি দে জোরজি, জর্জ লিন্ডে, মার্কো জ্যানসেন, কোর্বিন বশ, লুংগি নগিদি, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ, অ্যানরিচ নর্টজে, কুয়েনা মাফাকা এবং জেসন স্মিথ এই ১৫ জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
প্রোটেজা জেসন স্মিথকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী স্মিথ গত বছর ডলফিনসকে ডোমেস্টিক টি২০ চ্যালেঞ্জের প্লে-অফে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ১৯ ball-এ ৬৮ রান করেন। এছাড়া এই সিজনে এসএ২০-এ এমআই ক্যাপ টাউন হয়ে ডারবান সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ১৪ ball-এ ৪১ রান করে নজর কেড়েছেন। তবে তিনি এখনো টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র দুইবার খেলেছেন এবং তার স্ট্রাইক রেট ১২৮.৩০।
ট্রিস্টান স্টাবসের বাদ দেওয়া সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত। তিনি সাম্প্রতিক দুই আইপিএল মৌসুমে প্রায় ৭০০ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১৭০.৮৩। তবে ২০২৫ সালে টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার ফর্ম কমে গিয়েছিল; সাতটি ইনিংসে মোট ১৫২ রান, স্ট্রাইক রেট ১২১.৬০। এই পারফরম্যান্সের পার্থক্য দলীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
দল গঠন নিয়ে নির্বাচক প্যাট্রিক মরোনি উল্লেখ করেন, “বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তবে আমরা বিশ্বাস করি এই দলটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সফলতার পূর্ণ সম্ভাবনা রাখে। আমরা বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছু তরুণ টি২০ প্রতিভা যুক্ত করেছি।” এই বক্তব্যে তিনি নতুন মুখের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইন্ডিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ট্যুরের পর, দ্রুতগতি বলারাত্মকদের মধ্যে ওটনেইল বার্টম্যান এবং লুথো সিপামলা বাদ পড়েছেন। এছাড়া শীর্ষ ক্রমের ব্যাটসম্যান রিজা হেনড্রিক্সকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাবাদার ফিরে আসা পেসারদের আক্রমণকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দলীয় গঠন দেখে বিশ্লেষকরা রাবাদার অভিজ্ঞতা ও গতি পেসারদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করছেন। তার পূর্ববর্তী পারফরম্যান্সে তিনি টেস্ট, একডে ও টি২০ সব ফরম্যাটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার ফিরে আসা পেসারদের গভীরতা বাড়াবে এবং শর্তানুযায়ী কন্ডিশনে দলকে সমর্থন দেবে।
স্টাবসের বাদে, দলের ব্যাটিং লাইনআপে ডিকন এবং ডেভিড মিলারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে ডিউয়াল্ড ব্রেভিসের উজ্জ্বল ফর্ম রয়েছে। কোয়েন্টিন ডি কক গার্ড হিসেবে এবং ক্যাপ্টেন মার্ক্রাম অ্যাল-রাউন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সংমিশ্রণ দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দলীয় তালিকায় নতুন মুখ হিসেবে জেসন স্মিথের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার উচ্চ স্ট্রাইক রেট ও আক্রমণাত্মক শৈলী টি২০ ফরম্যাটে উপযোগী বলে কোচিং স্টাফের মতামত। যদিও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সীমিত, তবে দেশীয় টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স তাকে সুযোগের যোগ্য করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, সাউথ আফ্রিকার টি২০ বিশ্বকাপ দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। রাবাদার ফিরে আসা পেসারদের গতি বাড়াবে, আর স্টাবসের বাদে নতুন ব্যাটসম্যানদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দলটি ভারত ও শ্রীলঙ্কার শর্তে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ম্যাচে হোস্ট দেশ ভারতকে মুখোমুখি হবে। এরপর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার কথা। এই দুই ম্যাচের ফলাফল দলীয় গঠন ও কৌশলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে।
দলীয় প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে কোচিং স্টাফের মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলটি আত্মবিশ্বাসী বলে ধারণা করা যায়। টি২০ ফরম্যাটে দ্রুত গতি, উচ্চ স্ট্রাইক রেট এবং অভিজ্ঞতা সমন্বিত একটি দল গঠনই তাদের মূল লক্ষ্য।
সামনের ম্যাচগুলোতে রাবাদা, নর্টজে ও মাফাকার মতো পেসারদের পারফরম্যান্স এবং স্মিথের মতো নতুন ব্যাটসম্যানের আউটপুট দলকে টুর্নামেন্টে অগ্রসর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্টাবসের বাদ দেওয়া যদিও কিছু ভক্তকে হতাশ করেছে, তবে নির্বাচকরা দলকে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা দিয়ে সাজানোর চেষ্টা করছেন।



