ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ২ জানুয়ারি, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের শীর্ষ পদে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কিরিলো বুদানোভকে নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই পদবিন্যাসের মাধ্যমে তিনি বুদানোভকে রাষ্ট্রপতির অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
বুদানোভ, যিনি পূর্বে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সেবি) প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন, নভেম্বর মাসে দুর্নীতির অভিযোগের পর শীর্ষ সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করে ছিলেন। তার পদত্যাগের পর থেকে তিনি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন, তবে জেলেনস্কি তার অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দক্ষতা কাজে লাগাতে এই নতুন দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
প্রেসিডেন্টের অফিসের অফিসিয়াল সামাজিক মিডিয়া পৃষ্ঠায় জেলেনস্কি সংক্ষিপ্ত বার্তায় উল্লেখ করেন, “আমি কিরিলো বুদানোভের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছি এবং তাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বুদানোভের নতুন ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনি এখন রাষ্ট্রপতির নিকটবর্তী প্রশাসনিক কাঠামোর মূল অংশ হিসেবে কাজ করবেন।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি একটি আলাদা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, যুদ্ধের সমাপ্তির পর নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।
এছাড়া, তিনি কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি এই মুহূর্তে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে প্রাণঘাতী চার বছরের সংঘর্ষের পরিণতি এখনও দৃশ্যমান। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। এই মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি দেশের পুনর্গঠনকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
বুদানোভের নতুন দায়িত্বের ফলে রাষ্ট্রপতির অফিসের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত নীতি সমন্বয় সহজতর হতে পারে। তার অভিজ্ঞতা গোপন তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনায় সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে এই পরিবর্তন কীভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান হিসেবে বুদানোভের কাজের পরিধি ব্যাপক হতে পারে। তিনি কেবল প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানই নয়, দেশের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এই দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দায়িত্বও গ্রহণ করবেন।
যুক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই পদবিন্যাসকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলেনস্কি তার শাসনকালে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, এবং বুদানোভের অভিজ্ঞতা সেই প্রয়োজন মেটাতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের কিছু অংশ এই নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, বিশেষ করে বুদানোভের পূর্বের দুর্নীতি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে। তবে জেলেনস্কি ইতিমধ্যে এই উদ্বেগের প্রতি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ভবিষ্যতে, বুদানোভের দপ্তরের প্রধান পদে কাজের ফলাফল ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টের অফিস কীভাবে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, জেলেনস্কি বুদানোভকে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শান্তি চুক্তির প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর জোর দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।



