দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, হেফাজত ছয় মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে ২০২৪ সালে সামরিক আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত মামলায় তার আটককাল বাড়ানো হয়েছে। আদেশটি শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দেওয়া হয়। আদালত ইউনের সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কা তুলে ধরে এই পদক্ষেপ নেয়।
কোর্টের সিদ্ধান্তে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মেয়াদ পূর্বে নির্ধারিত ১৮ জানুয়ারি শেষ হওয়ার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে ইউনের হেফাজত অব্যাহত থাকবে এবং তাকে অতিরিক্ত সময়ে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। আদালত এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার সম্ভাব্য প্রমাণ ধ্বংসের ঝুঁকি উল্লেখ করেছে।
গত নভেম্বর মাসে সরকারী আইনজীবীরা ইউনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন, যার মধ্যে শত্রুকে সহায়তা করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ইউন সামরিক শাসন ঘোষণার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ওপর ড্রোন উড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ফলে ইউনের বিরুদ্ধে সামরিক আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত মামলায় নতুন দৃষ্টিকোণ যুক্ত হয়েছে।
প্রতিবাদী দল ও মানবাধিকার সংস্থা ইউনের উপর আরোপিত এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, সরকারী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর থেকে ইউনের বিরুদ্ধে চালু হওয়া তদন্তগুলোকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দেয়।
প্রাথমিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মেয়াদ ১৮ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে কোর্টের নতুন আদেশে তা ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়সীমা ইউনকে অতিরিক্ত তদন্তের মুখোমুখি করে এবং তার আইনগত অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক কর্মকর্তা এএফপিকে (AFP)কে জানিয়ে বলেন, “যদি ইউন প্রমাণ নষ্ট করার সম্ভাবনা থাকে, তবে পরোয়ানা জারি করা বাধ্যতামূলক।” এই মন্তব্য আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তির উপর কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ইউন বর্তমানে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ছে। তার হেফাজতকাল বাড়িয়ে দেওয়া মানে তিনি অতিরিক্ত সময়ে প্রশ্নোত্তর এবং প্রমাণ সংগ্রহের অধীন হবেন।
ডিসেম্বর ২০২৪-এ ইউন সাময়িকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বেসামরিক শাসন স্থগিত করেন, যা ব্যাপক প্রতিবাদ এবং সংসদীয় বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায়। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং জনমতকে তীব্রভাবে বিভক্ত করে।
এপ্রিল মাসে ইউনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপদ থেকে অপসারণ করা হয়, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। অপসারণের পর থেকে তার ওপর আরোপিত আইনি চ্যালেঞ্জগুলো বাড়তে থাকে এবং ভবিষ্যতে তার ওপর আরেকটি বিচারের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইউনের হেফাজত বাড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তার রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলবে। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের পরবর্তী রায় এবং তদন্তের ফলাফল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



