কুমিল্লা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রথম যাচাই‑বাছাই দিনে কুমিল্লা‑৫ (বুড়িচং‑ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন।
আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সিপিবি থেকে কুমিল্লা‑৫ আসনে মনোনয়ন পেয়ে ১৪ই জুলাই রিটার্নিং অফিসে পত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত এবং একই সময়ে পার্টির নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের যাচাই‑বাছাই শেষে রেজা হাসান জানান, মনোনয়নপত্রে সিপিবি দলের বর্তমান সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকায় তা অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। ফলে পত্রটি বাতিলের তালিকায় যুক্ত হয়।
আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, “কুমিল্লা‑৫ আসনে সিপিবি থেকে মনোনীত প্রার্থী আমি, দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। কিছুদিন আগে কংগ্রেসের মাধ্যমে আমাদের নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি, যা আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, তবে তারা তা আপডেট করেনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্বাভাবিকভাবে বর্তমান সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের স্বাক্ষরিত ফর্মে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু আপডেট না করায় নতুন কমিটির তথ্য নির্বাচন কমিশন জানে না, ফলে আমার মনোনয়নপত্রে নতুন সভাপতির স্বাক্ষর না থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে।”
আবদুল্লাহ ক্বাফীর মতে, পত্রে অন্য কোনো অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়নি এবং তিনি আগামীকাল আবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আবেদন করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি তাদের ভুল।”
প্রার্থী উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিপিবি দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ওপর। গত বৃহস্পতিবার নরসিংদী‑৪ আসনে তার স্বাক্ষরে দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল, যা এখনো বৈধ বলে স্বীকৃত।
রেজা হাসান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে যে স্বাক্ষরে সিপিবি প্রার্থীর মনোনয়ন উল্লেখ আছে, তা পত্রে নেই। তাই যাচাই‑বাছাইয়ে আমরা এটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করেছি।”
তিনি যোগ করেন, “যে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গিয়েছে তা ঠিক করার জন্য প্রার্থী আইনগতভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।” রেজা হাসান উল্লেখ করেন, রিটার্নিং অফিসের সিদ্ধান্তে কোনো আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনার অধীনে থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত সিপিবি দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার ত্রুটির ওপর আলো ফেলেছে। দলীয় নতুন কমিটির তথ্য আপডেট না হওয়ায় মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না থাকায় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পার্টির প্রশাসনিক কার্যক্রমে ঘাটতি নির্দেশ করে।
পরবর্তী সময়ে আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ও সিপিবি দল উভয়ই নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল দায়ের করতে পারে অথবা সংশোধিত পত্র জমা দিয়ে পুনরায় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। যদি আপিল স্বীকৃত হয়, তবে কুমিল্লা‑৫ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, যদি বাতিল চূড়ান্ত হয়, তবে সিপিবি এই আসনে অন্য কোনো প্রার্থী নামানুমোদন করতে পারে, যা নির্বাচনী গতিপথে প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনার পর সিপিবি দলের অন্যান্য জেলা শাখা ও কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত তথ্য আপডেট ও নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে সকল দলই মনোনয়নপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে আশা করা যায়।



