সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচে বাংলাদেশি বামহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ৪০০তম টি২০ উইকেট নেন, ফলে তিনি পেসারদের মধ্যে সর্বনিম্ন ম্যাচে এই মাইলফলক অর্জনকারী হয়ে ওঠেন। শুক্রবারের এই ম্যাচে রঙপুর রাইডার্সের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি সিলেট টাইটান্সের ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজকে আউট করে এই গুরুত্বপূর্ণ স্কোরে পৌঁছান।
মুস্তাফিজুরের পূর্বে ৩৯৯টি উইকেট ছিল, যা তিনি গত বৃহস্পতিবারের রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে হারের পর অর্জন করেছিলেন। একমাত্র অতিরিক্ত একটি উইকেটের প্রয়োজন ছিল, এবং তিনি তা সিলেটের হোম গ্রাউন্ডে নিশ্চিত করেন। এই জয় তার ক্যারিয়ারের ৩১৫তম টি২০ ম্যাচে ঘটেছে, যা পেসারদের মধ্যে সর্বনিম্ন ম্যাচ সংখ্যা দিয়ে ৪০০ উইকেটের শীর্ষে পৌঁছানোর রেকর্ড ভাঙে।
পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজের ৩৩৫টি ম্যাচের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে মুস্তাফিজুর পেসারদের মধ্যে দ্রুততম হয়ে ৪০০ উইকেটের শিরোপা অর্জন করেন। তিনি সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম খেলোয়াড়, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকান লেগ-স্পিনার ইমরান তাহির ৩২০টি ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেও, আফগানিস্তানের স্পিন কিং রাশিদ খান ২৮৯টি ম্যাচে আগে থেকেই এই স্তরে পৌঁছেছিলেন।
এই অর্জনের মাধ্যমে মুস্তাফিজুর টি২০ ইতিহাসে ৪০০ উইকেট ক্লাবে যোগদানকারী একাদশ বোলার হন। তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি এই মাইলফলক অতিক্রম করেছেন; শাকিব আল হাসান ২০২২ সালের বিপিএল-এ ৩৫৩টি ম্যাচে এই শিরোপা অর্জন করেছিলেন।
মুস্তাফিজুরের এই সাফল্য টি২০ ক্রিকেটে তার দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের প্রমাণ, যেখানে তিনি গত দশকে বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ী করতে সহায়তা করেছেন। তার বামহাতি গতি, পরিবর্তনশীল ডেলিভারি এবং শেষ ওভারের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাকে আধুনিক পেসারদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।
বিপিএল সিজনের এই পর্যায়ে রঙপুর রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রাখতে চায়, এবং মুস্তাফিজুরের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আশা করা হচ্ছে। তার দ্রুত উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলানোর দক্ষতা দলকে গেম প্ল্যানের মূল স্তম্ভে রাখবে।
এই রেকর্ডের সঙ্গে সঙ্গে মুস্তাফিজুরের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও নজরে এসেছে; ৪০০ উইকেটের পাশাপাশি তিনি টি২০ ফরম্যাটে ৩১৫টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তার দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সূচক। তার এই মাইলফলক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশি পেসারদের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে, এবং ভবিষ্যতে তরুণ বোলারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
সিলেটের এই ম্যাচে মুস্তাফিজুরের উইকেটের মাধ্যমে রঙপুর রাইডার্সের জয় নিশ্চিত হয়, এবং তার এই সাফল্য টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত হবে। দলটি এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে উভয় দলই শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কঠোর প্রতিযোগিতা করবে।
মুস্তাফিজুরের ৪০০তম উইকেটের এই মাইলফলক টি২০ ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নতুন একটি পৃষ্ঠা যোগ করেছে, এবং তার নাম এখন আন্তর্জাতিক পেসারদের তালিকায় দ্রুততম অর্জনকারী হিসেবে স্বীকৃত। তার এই সাফল্য বাংলাদেশি ক্রিকেটের গর্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



