বছরের শেষের দিকে অনেকেই নতুন সংকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন, তবে সাম্প্রতিক মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কখনও কখনও পুরনো লক্ষ্যগুলো ছেড়ে দেওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন।
পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ধারাবাহিকতা ও কঠোর পরিশ্রমকে উচ্চ মূল্যায়ন করা হয়, এবং এই মানসিকতা বহু সাফল্যের গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধারনা সবসময় সর্বোত্তম নয়; কখনও কখনও লক্ষ্য ত্যাগ করা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হতে পারে।
কুইবেকের মনোবিজ্ঞান বিভাগে কাজ করা এক বিশেষজ্ঞের মতে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই স্থায়িত্বকে প্রশংসা করে, কিন্তু লক্ষ্যগুলো যদি আর্থিক বা আবেগগতভাবে ভারী হয়ে ওঠে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য ত্যাগ করা স্বাস্থ্যের রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রের কম্পিউটেশনাল কগনিটিভ বিজ্ঞানীও একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তিনি বলেন, বছরের শেষের দিকে নিজের জীবনে আর কোন বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এই প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় লক্ষ্যগুলো শনাক্ত করে সেগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষ্য ত্যাগের প্রক্রিয়া সহজ নয়; এটি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। বিশেষ করে যখন কোনো লক্ষ্য ব্যক্তির পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তা ছেড়ে দেওয়া মানসিকভাবে কষ্টকর হতে পারে।
একটি উদাহরণ হিসেবে সম্পর্কের বিচ্ছেদকে উল্লেখ করা হয়েছে; বিচ্ছেদ এবং সম্পূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। লক্ষ্য ত্যাগের সময়ও একই রকম জটিলতা দেখা যায়, যেখানে প্রথমে বিচ্ছিন্নতা অনুভূত হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন দিকনির্দেশনা গড়ে ওঠে।
বৈজ্ঞানিক সাহিত্য অনুযায়ী, লক্ষ্য ত্যাগের ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে পারে। অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ ও শারীরিক রোগের ঝুঁকি কমে, এবং নতুন লক্ষ্য গঠন করার জন্য মানসিক স্থান তৈরি হয়।
এদিকে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টা কখনও কখনও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, আর্থিক চাপ, সময়ের ঘাটতি এবং আবেগগত অস্থিরতা লক্ষ্য ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, লক্ষ্য ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্ব-পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বর্তমান অবস্থা, লক্ষ্যগুলোর প্রাসঙ্গিকতা এবং সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যয় বিশ্লেষণ করা উচিত।
বছরের শেষের দিকে এই ধরনের স্ব-পর্যালোচনা করা সহজে করা যায়; ছোট নোটবুকে লক্ষ্যগুলোর তালিকা তৈরি করে, প্রতিটি লক্ষ্যকে মূল্যায়ন করা যায়। যা প্রয়োজনীয়, তা রেখে, অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দিয়ে নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, গবেষকরা সুপারিশ করেন যে, নতুন বছরের সংকল্প গড়ার আগে পুরনো লক্ষ্যগুলোকে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এটি কেবল স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং জীবনের সামগ্রিক সন্তুষ্টি বাড়াতে সহায়ক।
আপনার নিজের লক্ষ্যগুলো নিয়ে পুনরায় চিন্তা করার সময় এসেছে কি? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং নতুন বছরকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সার্থক করে তুলুন।



