উক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি কিরিলো বুদানোভকে প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী বুদানোভ, যিনি হুর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল আক্রমণ পরিচালনা করেছেন, এই পদে আসছেন। নিয়োগের ঘোষণাটি জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি এবং সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন, যেখানে তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে উক্রেনকে নিরাপত্তা বিষয়, প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা বাহিনীর উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য অতিরিক্ত মনোযোগ প্রয়োজন। তিনি বুদানোভের বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের ক্ষমতা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় যথাযথ ফলাফল দিতে সক্ষম।
বুদানোভের নতুন দায়িত্বের অংশ হিসেবে জেলেনস্কি তাকে দেশের প্রতিরক্ষার “কৌশলগত ভিত্তি” সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি আপডেট করে উপস্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নথিগুলোতে সামরিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা যায়।
বুদানোভের পূর্বসূরি অ্যান্ড্রি ইয়েরমাক, ৫৪ বছর বয়সী, ২৮ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। ইয়েরমাকের পদত্যাগের পেছনে তার কিয়েভে বাড়িতে অ্যান্টি-করাপশন এজেন্সির আক্রমণ ছিল, যদিও তাকে কোনো অপরাধের অভিযোগ করা হয়নি। এই ঘটনা উক্রেনের অভ্যন্তরে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং জেলেনস্কির শাসনকে দুর্বল করার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।
ইয়েরমাকের সময়কালে তিনি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রিক আক্রমণের সময় উক্রেনের রাজনৈতিক মঞ্চে বিশাল প্রভাব রাখতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তার প্রস্থান উক্রেনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের সূচনা করে, যা এখন বুদানোভের নেতৃত্বে নতুন দিকনির্দেশনা পাবে।
অ্যান্টি-করাপশন সংস্থা NABU এবং বিশেষায়িত অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটর অফিস SAPO, ইয়েরমাকের বাড়ি অনুসন্ধানের কারণ স্পষ্ট করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত ১০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড) জ্বালানি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই স্কিমে কিকব্যাক এবং রাষ্ট্রের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর, বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এনারগোঅ্যাটমের সঙ্গে জড়িততা রয়েছে।
এই দুর্নীতির ঘটনা উক্রেনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং জেলেনস্কির শাসনকে দুর্বল করেছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উক্রেনের কূটনৈতিক অবস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির আলোচনার সময়। বুদানোভের নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কৌশলকে একত্রিত করে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বুদানোভের গোয়েন্দা পটভূমি এবং সামরিক কৌশলগত জ্ঞান উক্রেনের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। তবে একই সঙ্গে, অ্যান্টি-করাপশন তদন্তের ফলাফল এবং ইয়েরমাকের পদত্যাগের পেছনের প্রকৃত কারণগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জেলেনস্কি বুদানোভকে নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের প্রধান হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নীতিতে এক নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে চান। এই পদক্ষেপটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



