ইনকিলাব মঞ্চ আজ শাহবাগে পুনরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে। হাদি, মঞ্চের মুখ্য মুখপাত্র, গত বছর নিহত হওয়ার পর থেকে ন্যায়বিচার দাবি ধারাবাহিকভাবে তীব্র হয়েছে।
আজ জুমা নামাজের আগে মঞ্চের সদস্যরা ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানায়, যাতে হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের শীঘ্রই দায়িত্বে আনা হয়। নামাজ শেষ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল মসজিদ থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়, যা শাহবাগের মূল চৌরাস্তার দিকে অগ্রসর হয়।
মঞ্চের সদস্য সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল জাবের শাহবাগে সমাবেশে সরকারের প্রতি কঠোর সতর্কতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মঞ্চ হাদির হত্যার মামলায় ৩০ কর্মদিবসের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং বর্তমানে ২২ দিন বাকি রয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে যদি বিচার সম্পন্ন না হয়, তবে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে সরকারকে পদত্যাগের দাবি তোলা হবে।
জাবেরের মতে, যদি সরকার অপরাধীদের সনাক্ত করতে, চার্জ শিট জমা দিতে বা তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার শাসনকালের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ এবং গোয়েন্দা সংস্থা কার্যকর না হলে এমন কোনো শাসনকে দেশের শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়।
মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, মাসের সপ্তম তারিখের মধ্যে হত্যাকারী ও তাদের পেছনের পরিকল্পনাকারী সনাক্ত করে চার্জ শিট দাখিল করা আবশ্যক। যদি এই তথ্য প্রকাশের ফলে শাসক দল তাদের ক্ষমতা হারায়, তবে তারা শাসন থেকে অযোগ্য বলে মঞ্চ জোর দেয়।
আদালতের আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চ নির্বাচন পূর্বে একটি জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারদেরকে জানানো হবে, কোন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হাদির ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে এবং কোনগুলোকে সমর্থন করা উচিত নয়।
মঞ্চের প্রতিনিধিরা আজ এবং আগামীকাল ‘প্রো-বাংলা’ স্বরূপ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ন্যায়বিচার অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, হাদি ছিলেন মঞ্চের সামনের সারির নেতা, এবং তার মৃত্যুর পর থেকে ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।
এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা শাহবাগের রাস্তায় মঞ্চের পতাকা ও স্লোগান বহন করে, সরকারের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের শিডিউল সম্পর্কে তথ্যের অভাবই মঞ্চকে আরও তীব্র পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে। ন্যায়বিচার দাবি এবং সরকারের প্রতি অবিশ্বাসের মিশ্রণ ভবিষ্যতে কী ধরনের জনমত গঠন করবে তা সময়ই বলবে।



