শাহরুখ খান ও সঞ্জয় লীলা ভাঁসালির নতুন বড় প্রকল্প ‘কিং’ এবং ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ দুটোই দুই ভাগে প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় ছবিই বিশাল বাজেটের মহাকাব্যিক প্রকল্প, এবং সাম্প্রতিক ‘ধুরন্ধর’ ছবির সাফল্যকে মডেল করে দুজনই একই কৌশল বিবেচনা করছেন।
‘ধুরন্ধর’ ছবির সিক্যুয়েল মার্চ ১৯ তারিখে মুক্তি পাবে, এবং তার পরের বছর থেকে শুরু হওয়া এই নতুন প্রবণতা চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ‘ধুরন্ধর’ কেবল বক্স অফিসে না, বরং ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন এনেছে, যা এখনো অনেক নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে আকর্ষণীয়।
‘কিং’ ছবির ক্ষেত্রে প্রথম ভাগের প্রাথমিক মুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত, আর দ্বিতীয় ভাগের পরিকল্পনা মার্চ ২০২৭ে রাখা হয়েছে। ছবিটি উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং বিশাল সেটের জন্য পরিচিত, যা প্রাথমিক বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি খরচের দাবি রাখে।
‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির প্রথম অংশের মুক্তি আগস্ট ২০২৬ এবং দ্বিতীয় অংশের মুক্তি জানুয়ারি ২০২৭ের দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক ও রোমান্টিক উপাদানকে একত্রিত করে তৈরি, এবং তার স্ক্রিপ্টের পরিমাণের ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
উভয় প্রকল্পই বর্তমানে শ্যুটিং পর্যায়ে রয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত একাধিক অংশে ভাগ করা হবে কিনা তা সম্পাদনা টেবিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শ্যুটিং চলাকালীন পর্যাপ্ত ফুটেজ সংগ্রহ হলে দুই ভাগে ভাগ করা সহজ হবে, নতুবা একক চলচ্চিত্রের রূপে প্রকাশিত হতে পারে।
‘ধুরন্ধর’ এর সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে অনেক গল্পকার এখন দীর্ঘ ফরম্যাটের স্ক্রিপ্ট লিখছে, যাতে দুই ভাগের ফরম্যাটে কাজ করা যায়। এই প্রবণতা কেবল আয় বাড়ানোর নয়, বরং গল্পের উপশাখা ও চরিত্র বিকাশের জন্য আরও সৃজনশীল স্বাধীনতা প্রদান করে।
দুটি ভাগে প্রকাশের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করা যায়, পাশাপাশি দর্শকদের জন্য দীর্ঘায়িত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। নির্মাতারা এখন এই মডেলকে আর্থিক ও শিল্পগত উভয় দিক থেকে লাভজনক বলে বিবেচনা করছেন।
‘ধুরন্ধর’ এর উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পের বিভিন্ন স্তরে নতুন চিন্তা জাগিয়ে তুলেছে। ব্যবসা ম্যানেজার ও সৃজনশীল দল উভয়ই এখন বড় স্কেল প্রকল্পে দুই ভাগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কন্টেন্টের সম্ভাবনা বাড়াবে।
পরবর্তী কয়েক মাসে এই দুই মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পাবে, এবং দর্শকরা নতুন রিলিজের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। শিল্পের এই পরিবর্তনশীল ধারা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনা ও নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
‘ধুরন্ধর’ এর সিক্যুয়েল মার্চ ১৯ তারিখে বড় পর্দায় আসবে, যা এই নতুন প্রবণতার সূচনা চিহ্নিত করবে। এই সময়ে উভয় ‘কিং’ ও ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এর শ্যুটিং ও সম্পাদনা কাজ তীব্রভাবে চলছে।
পাঠকবৃন্দকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, আসন্ন মাসে প্রকাশিত অফিসিয়াল ঘোষণাগুলো নজরে রাখুন এবং প্রি-অর্ডার বা টিকিট বুকিংয়ের সময়সূচি অনুসরণ করুন। দুই ভাগে প্রকাশিত হলে প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মধ্যে সময়ের ব্যবধানের সুবিধা নিয়ে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পের এই নতুন দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতে আরও বড় স্কেল প্রকল্পকে উৎসাহিত করবে, এবং দর্শকদের জন্য সমৃদ্ধ, বহুমাত্রিক গল্পের অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।



