যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ জানুয়ারি তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ করে, তবে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে অগ্রসর হবে। এই মন্তব্যটি ইরানে সম্প্রতি বাড়তে থাকা প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি ও মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাওর তথ্য অনুযায়ী, লর্ডেগান, আজনা ও কুহদাশত শহরে গুলিবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের পরিণতিতে প্রাণ হারানো হয়েছে।
লর্ডেগান শহরে দুইজন, আজনা শহরে তিনজন এবং কুহদাশতে একজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, লর্ডেগান জেলার চাহারমহল ও বাখতিয়ারির কিছু এলাকায় প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান উচ্চারণ করে এবং সরকারি ভবনে পাথর নিক্ষেপ করে।
প্রতিবাদকারীদের সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর কিছু অংশগ্রহণকারী গুলিবর্ষণ করে, ফলে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়। গুলিবর্ষণের সময় দুইজন প্রতিবাদকারী নিহত হয়। এই ঘটনাগুলি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা এবং জনমত উন্মাদনার মধ্যে তীব্র পারস্পরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের মুদ্রা রিয়ালও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিম্নমুখী হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, রিয়ালের মান বিদেশি মুদ্রার তুলনায় হ্রাস পেয়েছে, যা জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ও মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জনমত অসন্তোষ স্বীকার করে বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য সরকারই দায়ী। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহিরাগত শক্তির ওপর দোষারোপ না করে, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করেন।
ট্রাম্পের সতর্কতা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে নতুন মোড় আনতে পারে। যদি ইরান নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন না আনে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলবে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদকারীদের দাবি উভয়েরই সমন্বিত সমাধান না হলে, দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকতে পারে। সরকার যদি অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দিকে অগ্রসর না হয়, তবে জনমত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
অন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে। ইরানের নেতৃত্বের জন্য এখনই সময় এসেছে, যাতে তারা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
এই ঘটনাগুলি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত শক্তি ও সরকারের অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



