ডা. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম স্থপতি এবং গোনোফোরামের এমেরিটাস প্রেসিডেন্ট, আজ ঢাকার স্কোয়ার হাসপাতালকে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত অবনতি হঠাৎ ঘটেছে এবং বর্তমানে তিনি শারীরিক দুর্বলতা ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন।
গোনোফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দেশের নাগরিকদেরকে ডা. কামালের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান অবস্থায় রোগীর শারীরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
ডা. কামাল গত বুধবার খালেদা জিয়ার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন) জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজা সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং তা একটি বৃহৎ ভক্তি প্রকাশের দৃশ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। তবে, ডা. কামালের নাম সরকারি অতিথি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) তার গাড়িকে নির্ধারিত ভিআইপি রুটে প্রবেশের অনুমতি দেননি।
ফলস্বরূপ, ডা. কামালকে চেয়ারকোচে বসে ভিড়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। গাড়ি না পেয়ে তিনি জনসমাগমের মধ্যে দিয়ে নিজে নিজে চলতে বাধ্য হন, যা শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর প্রমাণিত হয়। গোনোফোরাম এই ঘটনার পর ডা. কামালের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করে।
ডা. কামাল বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার বর্তমান অসুস্থতা দেশের রাজনৈতিক গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার অবদান এবং গোনোফোরামের নেতৃত্বের কারণে ডা. কামালের স্বাস্থ্যের খবর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রতিনিধিরা ডা. কামালের অবস্থার বিষয়ে তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকার করেন।
ডা. কামালের পরিবার এবং সমর্থকগণ হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় প্রার্থনা ও সমবেত হওয়ার মাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। গোনোফোরামের সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে তার সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে চলেছেন।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, ডা. কামালের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তার অসুস্থতা গোনোফোরামের কার্যক্রম এবং দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
যদি ডা. কামাল শীঘ্রই সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন, তবে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দিয়ে দেশের সংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে অবদান রাখতে পারবেন। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে তার রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. কামাল হোসেনের বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা এবং গত বুধবারের জানাজা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। ভবিষ্যতে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের পুনরায় সূচনা কীভাবে হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



