সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাঙ্গালাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস ১০ উইকেটের পার্থক্যে ঢাকা ক্যাপিটালসকে পরাজিত করেছে। ঢাকা ১২২ রান সংগ্রহ করে ১৯.৪ ওভারে সব দশটি উইকেট হারায়, আর চট্টগ্রাম মাত্র ১২.৪ ওভারে লক্ষ্য পূরণ করে কোনো ব্যাটসম্যানের আউট না হয়ে জয়লাভ করে। এই জয় চট্টগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল এবং শীঘ্রই লক্ষ্য অর্জন করে ম্যাচের গতি নিজের পক্ষে নিয়েছে।
টসের পরে চট্টগ্রাম ক্যাপিটালসের ব্যাটিংকে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটাররা শুরুরই মুহূর্তে চট্টগ্রামের বোলারদের মুখোমুখি হয়ে কঠিন সময়ের সম্মুখীন হয়। প্রথম ওভারে ধারাবাহিক উইকেট পতনের ফলে দলীয় স্কোর দ্রুত বাড়ে না, যা পরবর্তী আক্রমণে চাপ বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকার ব্যাটিংয়ে প্রথমে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেল, তবে ধারাবাহিক উইকেটের পর স্কোর দ্রুত বাড়তে না পারায় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শেষের দিকে নাসির (১৭ রান) এবং সাইফুউদ্দিন (৩৩ রান) জুটি একসাথে একশো রানের বেশি যোগ করে দলকে সামান্য স্বস্তি দেয়। তবে তাদের অংশগ্রহণের পরেও দলটি ১২২ রানে থেমে যায়, এবং ১৯.৪ ওভারে সব দশটি উইকেট হারায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের শিকড়ে থাকা ওপেনার নাঈম শেখ এবং অ্যাডাম রসিংটন দ্রুত শুরুর পরেই দৌড়ে লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যায়। নাঈম ৪০ ball-এ ৫৪ রান করেন, আর রসিংটন ৩৬ ball-এ ৬০ রান করেন। দুজনই পুরো ইনিংস জুড়ে আউট না হয়ে অবিচলিত থাকায় চট্টগ্রামের শিকড়ে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে ওঠে। তাদের দ্রুত স্কোরিং রেট এবং সঠিক শট নির্বাচন চট্টগ্রামকে লক্ষ্য অর্জনের পথে ত্বরান্বিত করে।
নাঈমের আক্রমণাত্মক শট এবং রসিংটনের সুনির্দিষ্ট রানের গতি মিলিয়ে চট্টগ্রাম মাত্র ১২.৪ ওভারে ১২২ রানের লক্ষ্য অর্জন করে। উভয় ব্যাটসম্যানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পারফরম্যান্সের ফলে দলটি কোনো উইকেট হারায়নি, যা ১০ উইকেটের জয়ের চমৎকার উদাহরণ। এই জয় চট্টগ্রামের জন্য আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার পর দ্রুত শিকড়ে গিয়ে লক্ষ্য পূরণ করা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিংয়ে ১৯.৪ ওভারে ১২২ রান এবং ১০টি উইকেট হারানো হয়েছে, আর চট্টগ্রাম রয়্যালসের ওপেনার জুটি ১২.৪ ওভারে ১২২ রান করে কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়লাভ করেছে। উভয় দলে কোনো অতিরিক্ত রানের যোগফল বা অতিরিক্ত ওভার নেই, ফলে ম্যাচের ফলাফল স্পষ্ট এবং নির্ভুল।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই জয় দলকে টেবিলে শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করবে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে। দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী শিকড়ের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা তাদের লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন মুহূর্ত, তবে নাসির ও সাইফুউদ্দিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা কিছুটা আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতে ব্যাটিং লাইনআপে সামান্য পরিবর্তন বা কৌশলগত সমন্বয় করে তারা পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করতে পারে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের কোচিং স্টাফ ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বলছেন, “শিকড়ের স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত রানের গতি আমাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।” যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়নি, তবে দলের সামগ্রিক মনোভাব ও কৌশল স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
সিলেটের এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পর, বিপিএল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী দল এবং ম্যাচের তারিখ এখনও নির্ধারিত আছে, যা ভক্তদের জন্য নতুন উত্তেজনা নিয়ে আসবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত জয়কে কাজে লাগিয়ে লিগের শীর্ষে আরো এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।



