শেরেবাংলা নগর থানা ২ জানুয়ারি বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) ভবনের সামনে সংঘটিত ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে, অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মামলাটি বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবাদটি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের চালুর বিরোধিতা করে শুরু হয়। এ ব্যবস্থা মোবাইল ফোনের IMEI নম্বরকে জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত করে অবৈধ ও অনঅনুমোদিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধের লক্ষ্য রাখে। সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এই সিস্টেম কার্যকর করার ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মীরা শিকড় গাঁথা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করে।
১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩:৩০ টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে সমাবেশ গঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা একাধিক স্লোগান দিয়ে আন্দোলন শুরু করে এবং পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবনের কাচের দেয়ালসহ বিভিন্ন কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভাঙচুরের সময় ভবনের সামনে পার্ক করা ৫১ আসনবিশিষ্ট একটি এয়ার কন্ডিশনড স্টাফ বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭০৩৫) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ এক লাখ টাকা।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ভবন ও যানবাহনের মোট ক্ষতি প্রায় দুই কোটি এক লাখ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। নাশকতার সময় আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে, যার ফলে কমিশনের কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে দোষীসাধকরা পালানোর চেষ্টা করে, তবে现场 থেকে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও দশজন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করে এবং তাদের সহায়তায় নাশকতা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করে। অন্য অজ্ঞাত আসামিরা কৌশলে স্থান ত্যাগ করে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিটিআরসি ভবনের ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে NEIR সিস্টেমের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর ১ জানুয়ারি সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে আরও রাগের সঞ্চার ঘটায়।
মামলায় উল্লেখিত ৫৫ নামের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অজ্ঞাত আসামিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৫০০-৬০০ জনের পরিচয় নির্ধারণে তদন্তকারী দল অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিটিআরসির আইনগত ও লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক আশরাফুজ্জামান জাহেদ মামলাটি দায়ের করার পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। আদালত থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী জিজ্ঞাসা এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হতে পারে।
প্রতিবাদে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, ভাঙচুরের পদ্ধতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের তালিকা তদন্তের অধীনে রয়েছে। বিশেষ করে স্টাফ বাসের ক্ষতি ও ভবনের কাচের ভাঙচুরের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
বিটিআরসি ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া, NEIR সিস্টেমের কার্যকরীতা ও এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক বিরোধের সমাধানে সরকারী নীতি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় আইনগত দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সম্পদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থা গৃহীত হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতিবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রস্তুতি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।
বিটিআরসি ভবনে সংঘটিত এই ভাঙচুর ও নাশকতা, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে NEIR সিস্টেমের প্রয়োগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা আইনগত ও সামাজিক উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। মামলার অগ্রগতি, সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।



