বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্রের মধ্যে নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং প্রাক্তন জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য শারিফুল ইসলাম জিন্নাহের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. তৌফিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে পত্রসমূহের যাচাই শেষে আজ বিকেল প্রায় ৩:৩০ টায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মান্নার আবেদন বাতিলের মূল কারণ ছিল তার স্বীকৃতিপত্রে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে অমিল পাওয়া। স্বীকৃতিপত্রে দেওয়া বিবরণে অসঙ্গতি দেখা গেলে নির্বাচন আইন অনুযায়ী আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা বাধ্যতামূলক, তাই রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট পত্রটি রদ করে দেন।
অন্যদিকে জিন্নাহের আবেদন বাতিলের পেছনে ছিল সম্পদ বিবৃতি ফর্মের অনুপস্থিতি। তিনি স্বীকৃতিপত্রের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী জমা না করলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অপরিহার্য শর্ত পূরণে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হয় এবং তাই তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং অফিসার মো. তৌফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর তথ্যের অসঙ্গতি বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের আওতায় পড়ে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই পদক্ষেপটি সমানভাবে সকল প্রার্থীর উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কোনো পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত নেই।
মান্নার মনোনয়ন বাতিলের ফলে নাগরিক ঐক্য সংস্থার জন্য বড় ধাক্কা স্বরূপ। সংস্থার সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রার্থী এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, যা তার রাজনৈতিক উপস্থিতি ও প্রভাবকে সীমিত করতে পারে। পার্টি নেতারা বিকল্প প্রার্থী নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছেন এবং প্রয়োজনে আইনি আপিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রাক্তন জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য জিন্নাহের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তার বাতিল হওয়া আবেদন পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হারানোর সমতুল্য, ফলে জাতীয় পার্টি নতুন প্রার্থী খুঁজে বের করতে হবে অথবা বিদ্যমান প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করতে পারে।
এই দুই প্রার্থীর বাতিলের পর নির্বাচন কমিশনের তদারকি প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রার্থীদেরও তাদের সকল নথি সম্পূর্ণ ও সঠিকভাবে জমা দিতে হবে, নতুবা একই রকম শাস্তি পেতে পারে।
অবশেষে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এলাকার ভোটাররা এখন সংশোধিত প্রার্থীর তালিকা পাবেন, যেখানে মান্না ও জিন্নাহের নাম থাকবে না। রিটার্নিং অফিসার উল্লেখ করেছেন যে, বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং তা মেনে চলা হবে। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের গতি ও ফলাফলে কী প্রভাব পড়বে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



