আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের শেষ-১৬ টার্মে মরক্কোর স্টেডিয়ামে শনিবার থেকে শুরু হওয়া ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গ্রুপ পর্যায়ে গড়ে প্রতি খেলায় ৩.৬ গোল হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের আক্রমণাত্মক স্বরকে নির্দেশ করে।
সেনেগাল, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন, এই রাউন্ডে সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড় নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সাদিও মানে এবং নিকোলাস জ্যাকসনের অভিজ্ঞতা ও গতি দলকে পূর্ব আফ্রিকান প্রতিপক্ষের তুলনায় সুবিধা দেয়।
সুদানের দলও রাউন্ড‑অফ‑১৬-এ সেনেগালের মুখোমুখি হবে। দেশটি চলমান যুদ্ধে ভুগছে, তবে তবুও টুর্নামেন্টে স্থান পেয়েছে। কোচ কুয়েসি আপ্পিয়া, যিনি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ঘানার দলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, গৃহযুদ্ধের কারণে দেশীয় লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব কোয়ালিফায়ার দূর থেকে খেলতে হয়েছে।
সুদানের স্ট্রাইকার জঁ মানো উল্লেখ করেছেন যে দেশের অনেক মানুষ ম্যাচ দেখতে বা রেডিওতে শুনতে পারে না, এবং তারা ফুটবলের মাধ্যমে দেশের মুক্তি কামনা করছে। এই মন্তব্য দলকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উজ্জীবিত করেছে।
সুদানের জয় যদি ঘটে, তা টুর্নামেন্টের অন্যতম রোমাঞ্চকর গল্প হয়ে উঠবে, কারণ যুদ্ধের ছায়ায় ফুটবলের মাধ্যমে আশা জাগ্রত করার প্রচেষ্টা অনন্য।
মালি ও তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটিও রাউন্ড‑অফ‑১৬-এ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। মালি দলকে বেলজিয়ান কোচ টম সাঁফিয়েট পরিচালনা করছেন, যাঁর অধীনে দলটি গভীর প্রতিভা ও দৃঢ় চরিত্র প্রদর্শন করে। টটেনহ্যামের ইয়েভ বিসুমা এবং অগ্সেরের লাসিন সিনায়োকো আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তিউনিসিয়ার দলে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ সামি ট্রাবেলসি কোচিং করছেন। যদিও দলটি বিশ্বকাপের সহজে যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তবে গ্রুপে নাইজেরিয়ার কাছে ৩-২ হারে পরাজয়ের পর এখনো তাদের সর্বোচ্চ ফর্ম দেখায়নি।
যদি তিউনিসিয়া তাদের পূর্বের শক্তি পুনরায় পায়, তবে তারা টুর্নামেন্টের চমকপ্রদ দল হতে পারে, কারণ তাদের সমন্বয় ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি।
মরক্কোর হোস্ট দলও রাউন্ড‑অফ‑১৬-এ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্যায়ে মালি দলের সঙ্গে কঠিন ম্যাচে তাদের কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই এবং লক্ষ লক্ষ মরক্কোর ভক্তের nerves কাঁপিয়েছে।
মরক্কোর আক্রমণ ক্ষমতা এবং ঘরোয়া সমর্থন তাদের জন্য সুবিধা এনে দিতে পারে, তবে মাঝারি গ্রুপের টানাপোড়েন তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই রাউন্ড‑অফ‑১৬ ম্যাচগুলোতে প্রতিটি দল তাদের কৌশল ও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে। কোচদের সিদ্ধান্ত, মূল খেলোয়াড়ের ফর্ম এবং দলের ঐক্যই ফলাফল নির্ধারণ করবে।
পরবর্তী রাউন্ডে বিজয়ী দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করবে, যেখানে টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে। সকল ম্যাচের সময়সূচি ও ফলাফল আফ্রিকান ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক প্রকাশিত হবে।



