22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প প্রশাসন তিনটি পণ্যের ওপর বর্ধিত শুল্কের কার্যকর তারিখ এক বছর পিছিয়ে...

ট্রাম্প প্রশাসন তিনটি পণ্যের ওপর বর্ধিত শুল্কের কার্যকর তারিখ এক বছর পিছিয়ে দিল

হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কাঠের আসবাব, গৃহসজ্জা ও রান্নাঘরের সামগ্রীর ওপর বর্ধিত শুল্কের প্রয়োগ এক বছর দেরি করবে। এই সিদ্ধান্তটি জীবনের ব্যয় বাড়ার উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এবং নতুন শুল্কের কার্যকর তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারিত হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রশাসন এপ্রিলে এই তিনটি ক্যাটাগরির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশে বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসে গৃহসজ্জা ও রান্নাঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের শুল্ক ৫০ শতাংশে এবং কাঠের আসবাবের শুল্ক ৩০ শতাংশে বৃদ্ধি করা হয়। এই বর্ধিত শুল্কের প্রয়োগের জন্য একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল পরিকল্পনা ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুল্ক কার্যকর করা।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, শুল্কের কার্যকর তারিখ এক বছর পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথম দিন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়কালে পূর্বে নির্ধারিত ২৫ শতাংশ শুল্কই প্রযোজ্য থাকবে। ফলে, আমেরিকান ভোক্তারা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো তুলনামূলকভাবে কম শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল, বাড়তি জীবনের ব্যয়কে কমিয়ে সাধারণ নাগরিকের উপর আর্থিক চাপ হ্রাস করা। শুল্কের দেরি করা হলে, আমেরিকান বাজারে এই পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুল্কের পরিবর্তন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের এক সরকারি কর্মকর্তা এবিসিকে জানিয়েছেন, যে দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান। এই আলোচনায় শুল্কের সময়সূচি এবং পরিমাণ নিয়ে সমঝোতা করা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্ধিত শুল্কের মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকান উৎপাদনকে রক্ষা করা এবং বিদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা কমানো। তবে, শুল্কের দেরি করা হলে, এই লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। একই সঙ্গে, আমেরিকান উৎপাদনকারীরা দীর্ঘমেয়াদে শুল্কের পুনরায় প্রয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শুল্কের দেরি করা হলে স্বল্পমেয়াদে ভোক্তা মূল্য স্থিতিশীল থাকবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক ভারসাম্য এবং শিল্পের প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, কাঠের আসবাব ও গৃহসজ্জা শিল্পে আমদানি ও রপ্তানি চক্রে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে, আমেরিকান রিটেইল চেইন এবং ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাস, মূল্য নির্ধারণের কৌশল পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য বিকল্প পণ্য অনুসন্ধানে মনোযোগ দিতে পারে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শুল্কের দেরি করা ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, শুল্কের প্রয়োগে ব্যবসা ও শিল্পের চাপ বাড়ার ফলে প্রেসিডেন্টের নীতি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও এই পরিবর্তনকে নজরে রাখছে। শুল্কের দেরি করা হলে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে এবং সমঝোতার নতুন সুযোগ খুঁজে পেতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের প্রশাসন তিনটি পণ্যের ওপর বর্ধিত শুল্কের কার্যকর তারিখ এক বছর পিছিয়ে দিয়ে, বর্তমান ২৫ শতাংশ শুল্ককে ২০২৭ পর্যন্ত বজায় রাখবে। এই পদক্ষেপটি জীবনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ভবিষ্যতে, শুল্কের পুনরায় কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা দেশের অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের দিক নির্ধারণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments