নোয়াখালী জেলার মাইজদী শহরের একটি সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলার গহনা দোকান থেকে প্রায় একশ বিশ ভরি স্বর্ণের অলংকার চুরি হয়েছে। চুরি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায়। দোকানের মালিক মীর মোশারফ হোসেন ও তার পরিবার এই ঘটনার শিকার।
দোকানটি ৪২৪ নম্বর শপ, ‘নিলয় জুয়েলার্স’ নামে পরিচিত, যেখানে স্বর্ণের বিভিন্ন অলংকার বিক্রি হয়। মালিকের ছেলে ও দোকান পরিচালনাকারী মেহেরাজ হোসেন নিলয় জানান, তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান।
সেই রাতে মেহেরাজ হোসেন নিলয় দোকান থেকে বেরিয়ে গৃহে পৌঁছানোর পর, সিসিটিভি রেকর্ডিং পর্যালোচনা করা হয়। রেকর্ডে দেখা যায়, রাত প্রায় দশটায় তিন থেকে চারজন অচেনা ব্যক্তি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে, কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
অপরিচিত দস্যুরা দোকানের ডিসপ্লেতে রাখা স্বর্ণের অলংকারগুলো দ্রুত তুলে নেয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় একশ বিশ ভরি স্বর্ণের গহনা চুরি হয়েছে, যার মূল্য উল্লেখযোগ্য।
চুরির খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে থাকেন, কারণ এই ধরণের ঘটনা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহ করে। তদন্তের অংশ হিসেবে, চুরি করা স্বর্ণের কোনো বিক্রয় চিহ্ন পাওয়া যায় কিনা তা যাচাই করা হবে।
পুলিশের মুখ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুরিতে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য ফোরেনসিক বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজের তুলনা করা হবে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে, চুরি করা স্বর্ণের পুনরুদ্ধার ও অপরাধীদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, মামলাটি নিকটস্থ আদালতে দাখিল করা হবে।
অধিক তদন্তে, পুলিশ স্থানীয় গহনা বিক্রেতা ও গুদামগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে, চুরি করা পণ্য কোনো অবৈধ বাজারে প্রবেশ করেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া, সিসিটিভি রেকর্ডে দেখা গৃহীত গাড়ি ও ব্যক্তির চেহারা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই ঘটনার ফলে নোয়াখালীর স্বর্ণ ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি গহনা দোকান এখন অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও সুরক্ষা গার্ড নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
পুলিশের মতে, চুরির পেছনে সংগঠিত অপরাধের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই তদন্তে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই চুরি মামলায় আদালত ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।



