মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে সাম্প্রতিক সময়ে পানীয় পানির গুণগত মান হ্রাসের ফলে ডায়রিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের ফলে কমপক্ষে নয়জনের প্রাণ শেষ হয়েছে এবং দুইশতাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শহরের ভাগীরথপুরা এলাকায় বসবাসকারী, যেখানে পানির পাইপলাইনে ছিদ্রের কারণে দূষণ ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডায়রিয়া রোগের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দুইশতাধিক রোগী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে আছেন, যেখানে পুনরুজ্জীবন তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট সমাধান প্রদান করা হচ্ছে। রোগীর বয়সের পরিসর বিস্তৃত, তবে বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভাগীরথপুরা এলাকার পানীয় পানির প্রধান পাইপলাইনে একটি উল্লেখযোগ্য ছিদ্র রয়েছে, যার ফলে বাইরের ব্যাকটেরিয়া পানিতে প্রবেশ করেছে। এই ব্যাকটেরিয়াল দূষণই ডায়রিয়া সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পানির নমুনা সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ চালিয়ে গেছেন এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন, যা রোগের বিস্তার ও দূষণের মাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
শহরের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মাধব প্রসাদ হাসানী জানান, মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা কঠিন, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। একই এলাকার দুইশতাধিক রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন, এবং আরও কিছু রোগীর অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দূষিত পানির নমুনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্রবণ ভার্মা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মী দল গঠন করে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া, পানির শুদ্ধিকরণে সহায়তা করার জন্য বাসিন্দাদের মধ্যে ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে পানির গুণগত মান উন্নত করা যায়।
প্রশাসনিক দলও পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সনাক্ত করে তা মেরামত করেছে। এখন পর্যন্ত ৮,৫৭১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩৮ জনের মধ্যে মৃদু উপসর্গ পাওয়া গেছে। এই রোগীরাও তদনুযায়ী পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছেন।
ইন্দোর শহর পূর্বে আট বছর ধারাবাহিকভাবে ভারতের সর্বাধিক পরিচ্ছন্ন শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল। তবে এই ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব দেখায় যে, পরিচ্ছন্নতার সুনাম থাকা সত্ত্বেও পানীয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য। পানির গুণগত মানের নিয়মিত পরীক্ষা, পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এই ধরনের স্বাস্থ্য সংকট প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পানীয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাসিন্দাদেরকে নিয়মিতভাবে পানির গুণমান পরীক্ষা করা, ক্লোরিন ট্যাবলেটের সঠিক ব্যবহার এবং কোনো অস্বাভাবিক স্বাদ বা গন্ধ লক্ষ্য করলে তা তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। আপনি কি আপনার বাড়ির পানির নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত? নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক শুদ্ধিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করে এই ধরনের রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।



