মাগুরা নতুন বাজারের গৌর গোপাল সেবা আশ্রমে শুক্রবার সকালবেলা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে সাংবাদিকদের আলোচনার সময় আওয়ামী লীগের জনগণের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে গেছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব অনিশ্চিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আশ্রম পরিদর্শনের পর আলম বলেন, দেশের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয় এবং জনগণের কাছে তার স্বীকৃতি কমে গেছে। তিনি এই বক্তব্যকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন।
আলমের মতে, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নেতারা প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভুল ধারণা তৈরি করছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, গত সতেরো মাসের মধ্যে দলটি কোনো ভুল স্বীকার করে না। যদিও এখন মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবু এই সময়ে স্বীকারোক্তি দিলে তা খুব দেরি হয়ে যাবে।
আলমের কথায় স্বীকার করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য আত্মসমালোচনা এবং দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে অতীতের ভুল স্বীকারের কোনো বিকল্প নেই এবং তা না করলে দলটি ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের এই মন্তব্যগুলো আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। মনোনয়নপত্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে দলটি যদি স্বীকারোক্তি না করে, তবে ভোটারদের বিশ্বাস অর্জনে অতিরিক্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আলমের বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে দলীয় নেতাদের বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যা তথ্যের মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা এবং জনমতকে সম্মান করা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, আওয়ামী লীগ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আলমের মতামত দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনার একটি অংশ হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনার সূচক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুল আলমের বক্তব্য আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



