পাবনা জেলায় ঈশ্বরদী উপজেলার বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত একটি মিলিং কোম্পানিতে গত বৃহস্পতিবার রাতের খাবারের পর প্রায় ত্রিশজন শ্রমিক হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করেন। তাদের মধ্যে ষোলোজনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি শ্রমিকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের কর্মস্থলে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরে একটি ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মচারী ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা এবং মাথাব্যথা সহ বিভিন্ন উপসর্গে ভুগতে শুরু করেন। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ মেডিকেল অফিসার প্রথমে প্রাথমিক সেবা প্রদান করেন, তবে অবস্থা খারাপ হলে তারা নিজস্ব গাড়িতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি এবং মাথাব্যথা প্রধান উপসর্গ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মোট প্রায় ত্রিশজনের মধ্যে ষোলোজনকে ভর্তি করা হয়, অন্য আট থেকে দশজনকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কমপ্লেক্সের ডাক্তারের মতে, রোগীর অধিকাংশই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার উপসর্গে আক্রান্ত এবং বর্তমানে কোনো জীবনহানিকর অবস্থা দেখা যায়নি। প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে, খাবার বা পানিতে ব্যাকটেরিয়াল দূষণ ঘটতে পারে, যা এই ধরনের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা হবে।
কোম্পানির শাখা প্রশাসক শিহাব উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের অসুস্থতার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ঠাণ্ডা বা পরিবেশগত কারণও সম্ভাব্য হতে পারে। কোম্পানি ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফারেল করেছে।
ডা. উম্মে হাবিব কুলসুম, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, রোগীদের বর্তমান অবস্থাকে স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে জরুরি সেবা গ্রহণের পর সকল রোগীই নিরাপদে চিকিৎসা পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত করতে যথাযথ হাইড্রেশন এবং হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করেছেন। তারা খাবার প্রস্তুতকারকের রেফ্রিজারেশন, রান্নার পদ্ধতি এবং পানীয় জলের গুণগত মান পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোম্পানিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীল শিল্পক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্মস্থলের স্বাস্থ্য রক্ষার মূল ভিত্তি। কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ এবং সঠিক খাবার সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
অতএব, শ্রমিকদের পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যদি কোনো ব্যক্তি একই রকম উপসর্গ অনুভব করেন, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া, খাবার ও পানীয়ের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা রোগের বিস্তার রোধে সহায়ক হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ একত্রে কাজ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানদণ্ডের কঠোর অনুসরণ অপরিহার্য।
সামগ্রিকভাবে, যদিও কিছু শ্রমিকের স্বাস্থ্যের অস্থায়ী সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবু দ্রুত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কোম্পানি এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



