আদাম রসিংটন, চট্টগ্রাম রয়্যালসের ইংলিশ কিপার, শুক্রবার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলা বিপিএল ম্যাচে এক ম্যাচে চারটি স্টাম্পিং করে বিশ্বরেকর্ডের তালিকায় নাম লেখালেন। এই কীর্তি তাকে ছয়জনের মধ্যে যোগ করায়, যারা টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ স্টাম্পিং রেকর্ড ধারণ করে।
রসিংটনের প্রথম বিপিএল ম্যাচে তিনি মাত্র এক রান করে আউট হন এবং কোনো স্টাম্পিং করতে পারেননি। তবে পরের ম্যাচে তিনি এক মুহূর্তে চারটি স্টাম্পিং সম্পন্ন করে নিজের পারফরম্যান্সে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন, যা বিপিএল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক কিপার একই খেলায় চারটি স্টাম্পিং করেন।
চারটি স্টাম্পিংয়ের সবই বোলারদের সঙ্গে সমন্বয়ে ঘটেছে। প্রথমে তানভির ইসলামের বামহাতি স্পিনে উসমান খানকে স্টাম্প করা হয়। এরপর শেখ মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে শামীম হোসেন, যিনি পূর্বদিনে ৮১ রান করলেও এই ম্যাচে মাত্র ৭ রান করে ৪ বলের মধ্যে বেরিয়ে আসেন, স্টাম্প হন।
পরবর্তী দুই ওভারে সাব্বির রহমান ও ইমাদ ওয়াসিমকে ধারাবাহিকভাবে স্টাম্প করা হয়; প্রথমটি মেহেদির বোলিংয়ে, দ্বিতীয়টি তানভিরের বোলিংয়ে। এভাবে চারটি স্টাম্পিং সম্পন্ন হওয়ার পর রসিংটন আর কোনো অতিরিক্ত সুযোগ পাননি, যদিও তিনি পাঁচটি স্টাম্পিংয়ের স্বপ্নের কাছাকাছি ছিলেন।
রসিংটনের এই কীর্তি তাকে বিশ্ব রেকর্ডে যুক্ত করে, যেখানে আগে থেকেই ছয়জন কিপার এই শিরোপা ধারণ করে আসছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ধিমান ঘোষ, ইংল্যান্ডের টনি ফ্রস্ট (২০০৪), ভারতের দিনেশ কার্তিক (২০০৭), পাকিস্তানের কামরান আকমাল (২০০৯), ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনেশ রামদিন (২০১৪) এবং শ্রীলঙ্কার লাহিরু দাওয়াতাগে (গত বছর)।
ধিমান ঘোষের চারটি স্টাম্পিং জাতীয় লিগ টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে সিলেট বিভাগের হয়ে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ঘটেছিল। তার এই কীর্তি দেশীয় টি‑টোয়েন্টি পর্যায়ে একমাত্র চারটি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত।
আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টি পর্যায়ে মাত্র দুইজন কিপারই চারটি স্টাম্পিং সম্পন্ন করেছেন: ২০০৯ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কামরান আকমাল এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দিনেশ রামদিন। এ দুজনের পারফরম্যান্স রসিংটনের রেকর্ডকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় করে তুলেছে।
বিপিএল-এ রসিংটনের আগে সর্বোচ্চ স্টাম্পিং সংখ্যা তিনটি ছিল, যা দু’বার ২০১৬ সালে ঘটেছিল। প্রথমবার আফগান কিপার মোহাম্মদ শাহজাদ রঙপুর রাইডার্সের হয়ে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে তিনটি স্টাম্পিং করেন, আর দ্বিতীয়বার পাকিস্তানি উমার আকমাল রাজশাহী কিংসের হয়ে রঙপুর রাইডার্সের বিপক্ষে একই সংখ্যক স্টাম্পিং সম্পন্ন করেন।
রসিংটনের চারটি স্টাম্পিং তাকে পাঁচটি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডের এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে গেল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। তবুও এই কীর্তি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে সংরক্ষিত হবে।
কিপার হিসেবে রসিংটনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং বোলারদের সঙ্গে সমন্বয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের ফিল্ডিং ইউনিটকে শক্তিশালী করেছে। কোচের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “স্টাম্পিংয়ের সময় কিপারের চটপটে দৃষ্টিভঙ্গি ও বোলারদের সঠিক লাইন গুরুত্বপূর্ণ, আর আজ রসিংটন তা নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন।”
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী দলটি আগামী সপ্তাহে আবার টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নেবে, যেখানে রসিংটনের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স আবারও দলে বড় অবদান রাখতে পারে।



