সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুর পর টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবই উন্মুক্ত করা হয়েছে। শোকবইটি শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে খুলে থাকবে এবং ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাক্ষরের জন্য উপলব্ধ থাকবে। দেশের বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা এই শোকবইতে স্বাক্ষর করে শোক প্রকাশ করছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সমবেদনা প্রকাশের একটি চিহ্ন।
দূতাবাসের কর্মীরা শোকবইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের স্বাক্ষরের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাপানে অবস্থিত অন্যান্য দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি, যারা বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন, তারা শোকবইতে স্বাক্ষর করে বেগম জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শোকবইটি ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকবে, এরপর তা সংরক্ষণ করা হবে।
বঙ্গ সরকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোকের সময়কাল জুড়ে টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে, যা শোকের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হবে। সরকার এই পদক্ষেপকে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শোকের সময়ে জাতীয় স্তরে শোকের অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেগম জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তার মৃত্যুর শোক সমগ্র জাতিতে অনুভূত হবে। শোকের সময়ে সরকারি দপ্তরে এবং দূতাবাসে শোকের অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে।
বিএনপি পক্ষ থেকে বেগম জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পার্টির মুখপাত্র বর্ণনা করেছেন, তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। পার্টি সদস্যরা শোকের সময়ে পার্টির অফিসে শোকের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।
বেগম জিয়ার মৃত্যুর ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিএনপি এখন নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, শোকের সময়ে সরকারী ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় ও শোকের প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাবে।
শোকবই উন্মুক্ত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে বেগম জিয়ার উত্তরাধিকার কীভাবে রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



