গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বৃহৎ পরিসরে প্রচারণা চালাবে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে নির্ধারিত গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকগণ অংশ নেন।
সভা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সকলকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ভোটের বিষয়টি জনমনের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারে।
সভা শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা করা হয়। এরপর তথ্য সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে। কিছু এলাকায় বিলবোর্ডের মাধ্যমে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত বিলবোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দফতরের সিনিয়র সহকারী সচিব মীর আলিফ রেজা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল জায়গায় ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ভোটের ব্যালট এবং গণভোট সম্পর্কিত লিফলেটগুলোকে সর্বাধিক জনবহুল স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে তাদের সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কন্টেন্ট ব্যবহার করে প্রচার কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনসাধারণকে সরাসরি তথ্য প্রদান করতে চায়, যাতে ভোটের আগে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কিছু সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা বিলবোর্ডের মাধ্যমে তথ্য প্রচার শুরু করেছে এবং অতিরিক্ত স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে।
গণভোটের লোগো এবং ব্যালটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে নগর এলাকায় ডিজিটাল স্ক্রিন এবং ম্যানুয়াল পোস্টার উভয়ই ব্যবহার করা হবে। এতে করে বিভিন্ন বয়স ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষ সহজে তথ্য গ্রহণ করতে পারবে। সরকারী দিক থেকে এই প্রচারণা সমগ্র দেশের ভোটারদের জন্য সমান তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সভার শেষে উপস্থিত সকলকে গণভোটের লোগো ব্যবহার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়। সরকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এই প্রচারণা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করবে এবং ভোটের সময় কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে।
গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের প্রচারণা সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত তথ্য প্রচার এবং ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে গণভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।



