বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত ১৫ জনের দলে পারভেজ হোসেন এমনকে ব্যাটিং অর্ডারের চতুর্থ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচক কমিটি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের ব্যাটিং ভারসাম্য বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় জাকার আলি ফর্মের অভাবের কারণে দলে অন্তর্ভুক্ত হননি। তার শেষের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকায় নির্বাচকরা তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
টেস্ট দলের ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেনও টি২০ দলে ফিরে আসতে পারেননি, যদিও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ স্কোরার হিসেবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। নাজমুল চারটি ম্যাচে ২০৩ রান সংগ্রহ করে গড় ৬৭.৬৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭.১০ অর্জন করেছেন।
বিএলপি-তে শিলেট টাইটান্সের সঙ্গে থাকা এমনকে দলীয় ব্যবস্থাপনা নতুন ভূমিকা পরীক্ষা করার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ব্যবস্থাপনা টাইটান্সকে অনুরোধ করে তাকে উন্মাদনা পূর্ণ ওপেনার থেকে চতুর্থ ব্যাটারিতে নামিয়ে দিতে, যাতে নতুন অবস্থানে তার দক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়। এই পরিবর্তন উভয় পক্ষেরই সন্তোষজনক হয়েছে।
শিলেট টাইটান্সে তার বর্তমান মৌসুমে এমন ১৬৯ রান সংগ্রহ করেছেন, গড় ৮৪.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫৯.৪৩ সহ। এই পরিসংখ্যান তার আক্রমণাত্মক স্বভাবকে তুলে ধরে এবং নতুন অবস্থানে তার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
প্রশিক্ষণ সেশনের সময় এমন বলেছিলেন, “যেকোনো অবস্থানে খেলা আমার জন্য স্বাভাবিক, চ্যালেঞ্জিং হলেও আমি উপভোগ করছি। দলের জন্য সবকিছুই প্রথমে আসে।” তার এই মন্তব্য দলীয় মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইরল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন প্রথমবার চতুর্থ ব্যাটারিতে খেলেছিলেন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী ৩৩ রান রেখে সিরিজটি জিতে নেন। এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখে।
দলীয় ব্যবস্থাপনা এমনকে নতুন ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে এবং তিনি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচক প্যানেলের এক গোপনীয় সদস্য উল্লেখ করেন, “এমনকে চতুর্থ স্থানে রাখলে আমাদের ব্যাটিং লাইনআপে বামহাতি বিকল্প যুক্ত হয় এবং তিনি ধীর গতি বোলারদের বিরুদ্ধে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” এই মন্তব্য নতুন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
জাতীয় দলীয় ক্যাপ্টেন লিটন কুমার দাসও শেষ টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমনকে চতুর্থ ব্যাটারিতে দেখতে পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সৈফের বিভিন্ন ভূমিকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, তাই এমনকে চতুর্থ স্থানে রাখা স্বাভাবিক।” ক্যাপ্টেনের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ নমনীয়তা ও বিকল্প ব্যবহারের নীতি তুলে ধরে।
এখন দলটি টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নতুন ব্যাটিং অর্ডার এবং পরিবর্তিত ভূমিকা দলের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে। নির্বাচিত ১৫ জনের দল শীঘ্রই আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি শিবিরে অংশ নেবে, যাতে বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের শক্তি প্রদর্শন করা যায়।



