বিশ্বের দ্রুততম দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের জ্যামাইকার একটি বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা ‘স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’ থেকে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা) গায়েব হওয়ার ঘটনা তিন বছর পর আদালতে নতুন দিক পায়। জ্যামাইকার আদালত গত সপ্তাহে সংস্থার তিনজন প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবৈধ সিকিউরিটিজ ব্যবসা এবং ব্যাংকিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করে।
বোল্টের অ্যাকাউন্টে মূলত ১০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা থাকা কথা, তবে তদন্তে দেখা যায় অবশিষ্ট মাত্র ৯,৭০০ পাউন্ডই রয়ে গিয়েছে। অর্থের অধিকাংশই সুনিপুণ পরিকল্পনা অনুসারে সংস্থার বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হয়, যা পরবর্তীতে অপ্রকাশিত হয়ে যায়। এই জালিয়াতির ফলে বোল্টের পাশাপাশি প্রায় দুইশো অন্যান্য গ্রাহকও একই রকম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আদালতে অভিযোগের মুখে আছেন হিউ ক্রুস্কেরি, সারাহ মেনি এবং জ্যাকারি হার্ডিং, যাঁরা সংস্থার ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত থাকাকালীন বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে অবৈধভাবে সিকিউরিটিজ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ডিলার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালানো, কোম্পানি নিবন্ধন আইন ভঙ্গ এবং ব্যাংকিং পরিষেবা আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি জালিয়াতি পরিকল্পনা গঠন ও বাস্তবায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় ক্রুস্কেরি ও মেনিকে ৭ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ডের বন্ডে জামিন দেওয়া হলেও তাদের চলমান কার্যক্রম কঠোর তদারকিতে রাখা হয়েছে। হার্ডিংকেও জামিন দেওয়া হয়েছে, তবে তার শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি। পূর্বে এই মামলায় শুধুমাত্র সম্পদ উপদেষ্টা প্যান্টনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তবে নতুন অভিযোগের মাধ্যমে তিনজনের ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে।
বোল্টের আইনজীবী গর্ডন মামলার শুরুর দিকেই উল্লেখ করেন যে, একক কোনো কর্মকর্তা এত বিশাল পরিমাণ অর্থ একা আত্মসাৎ করতে পারবে না; তার মতে বড় কোনো নেটওয়ার্কের অংশীদারিত্বই মূল কারণ। গর্ডনের এই ধারণা এখন আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, যা তার দীর্ঘদিনের সন্দেহকে সমর্থন করে।
অধিকাংশ প্রমাণ ও সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপিত হওয়ায় পরবর্তী শোনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই মামলার ফলাফল ক্রীড়া জগতের আর্থিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগকারীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। উসাইন বোল্টের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার দাবি তীব্রতর হয়েছে।
মামলার পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায়, আদালত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি জালিয়াতি রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, জড়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবিত বিনিয়োগকারীদের তালিকা প্রকাশের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ শাস্তি ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গৃহীত হবে।



