যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর সহিংস গুলি চালালে আমেরিকান সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি জানিয়েছেন। তিনি তার সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উল্লেখ করেন যে দেশটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যটি ইরানে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে সৃষ্ট বিশাল প্রতিবাদে প্রাণহানি ঘটার পর প্রকাশিত হয়।
ইরানে গত সপ্তাহে শপিংমল ও বাজারের মালিকদের মুদ্রা হ্রাস এবং তীব্র মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নীতি সমালোচনা করার পর থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। এই প্রতিবাদগুলো তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারে রূপ নেয় এবং দ্রুত দেশের বহু প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শপিংমল মালিকদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়ে, ফলে রাস্তায় বিশাল জনসমাগম দেখা যায়।
প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে এবং অনেকে আহত হন। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, এই সহিংসতা কয়েকটি প্রদেশে একাধিক শহরে একসঙ্গে ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্রতর করেছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইরানের অর্থনীতি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই বছর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করার পর থেকে ইরানের তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন সীমাবদ্ধ হয়েছে, যা মুদ্রার মান হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্রতর করেছে। এই অর্থনৈতিক চাপই মূলত প্রতিবাদ আন্দোলনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়া পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে দেশটি ইতিমধ্যে সশস্ত্র এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তিনি বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ চালিয়ে যায়, তবে আমেরিকান সরকার তাদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সরকারী দপ্তর থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের এই সতর্কতা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কঠোর করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রকমের দৃঢ় অবস্থান ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পূর্বে পুনরায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহার ইরানের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে; এখন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলকে আরও জটিল করে তুলবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ইরান সত্যিই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়ে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে এবং তা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সূচনা হয়নি, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে।
পরবর্তী সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে এই সংকটের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে। ইরান সরকার যদি প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমে আসতে পারে। অন্যদিকে, যদি সহিংসতা বাড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।



