লাদাখের লে.গভর্নর কাভিন্দার গুপ্তা ২ জানুয়ারি তার অফিসের এক্স (X) পেজে জানিয়েছেন যে, আদিত্য ধরের পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রটি এখন থেকে ইউনিয়ন টেরিটরির সব এলাকায় বিনোদন করমুক্ত থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি চলচ্চিত্রের অসাধারণ বক্স‑অফিস সাফল্য এবং লাদাখের প্রাকৃতিক দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ ডিসেম্বরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় এবং তৎপরই দেশের ও বিদেশের দর্শকদের কাছ থেকে বিশাল সাড়া পায়। বাণিজ্যিকভাবে এটি রেকর্ড‑ভাঙা ফলাফল অর্জন করে, যা লাদাখের ট্যাক্স মওকুফের পেছনে প্রধান প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি আদিত্য ধরের লেখা, পরিচালনা ও প্রযোজনা অধীনে তৈরি হয়েছে। জিও স্টুডিওস এবং B62 স্টুডিওস যৌথভাবে প্রযোজনা কাজটি সম্পন্ন করেছে। রণবীর সিং প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, আর সঙ্গে আকাশে খান, আর. মধবন, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল এবং সারা অর্জুনের মতো বিশিষ্ট শিল্পী রয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ একটি গোপন তথ্যচালিত থ্রিলার, যেখানে বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় গোপন গোয়েন্দা কাজের দৃশ্যাবলী চিত্রায়িত হয়েছে। ছবিটি লাদাখের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে শুট করা হয়েছে, যার ফলে অঞ্চলের শীতল পর্বতমালা ও বিস্তীর্ণ উপত্যকার সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
লাদাখের লে.গভর্নরের অফিসের টুইটে উল্লেখ করা হয়েছে, “চলচ্চিত্রটি লাদাখের দৃশ্যাবলীকে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করেছে, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি ইতিবাচক সমর্থন এবং এই অঞ্চলকে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পছন্দের গন্তব্যে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সহায়তা করবে।” এই বার্তাটি ট্যাক্স মওকুফের মাধ্যমে শিল্পের উত্সাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বক্স‑অফিসের দিক থেকে, ‘ধুরন্ধর’ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় উঠে আসে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে আয় বাড়িয়ে চলেছে, এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ভালো সাড়া পেয়েছে। এই আর্থিক সাফল্য লাদাখের ট্যাক্স মওকুফের সিদ্ধান্তকে আরও যুক্তিসঙ্গত করে তুলেছে।
লাদাখের ট্যাক্স মওকুফের ফলে চলচ্চিত্রের টিকিটের দাম কমে যাবে, যা স্থানীয় দর্শকদের জন্য সিনেমা উপভোগের সুযোগ বাড়াবে। একই সঙ্গে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা লাদাখের প্রাকৃতিক পরিবেশকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে উদ্বেগ কমবে। এই নীতি ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রকে লাদাখে শ্যুট করার দিকে উৎসাহিত করতে পারে।
‘ধুরন্ধর’ এর সাফল্য এবং লাদাখের এই পদক্ষেপ দুটোই দেশের বিনোদন শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। চলচ্চিত্রের উচ্চমানের কাহিনী, শক্তিশালী কাস্ট এবং লাদাখের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলীর সমন্বয় একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে, যা অন্যান্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।
সর্বশেষে, লাদাখের ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা ‘ধুরন্ধর’ এর বাণিজ্যিক সাফল্যের স্বীকৃতি এবং অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই নীতি চলচ্চিত্র শিল্পের সমৃদ্ধি এবং লাদাখের পর্যটন আকর্ষণকে একসাথে উন্নত করার লক্ষ্য রাখে।



