ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ অস্ট্রেলিয়া‑ইংল্যান্ড টেস্টের জন্য ১২ খেলোয়াড়ের দল প্রকাশ করেছে। দলটিতে অফ‑স্পিনার শোয়েব বাশির অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি সিরিজের প্রথম চারটি ম্যাচে কোনো সুযোগ পাননি।
শোয়েব বাশির সিরিজের শুরুতে দলের প্রথম পছন্দের স্পিনার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন, তবে পার্কে তার নাম প্রথম টেস্টের ১২ সদস্যের দলে থাকলেও একাদশে তিনি খেলতে পারেননি। পরবর্তী তিনটি টেস্টে তিনি আবারও দলে ছিলেন, কিন্তু মাঠে নামার সুযোগ পাননি, ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্পিনিং অলরাউন্ডার উইক জ্যাকসকে বেছে নেওয়া হয়।
প্রথম তিন টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ধারাবাহিক জয় অর্জন করে সিরিজের শীর্ষে উঠে আসে। ইংল্যান্ডের জন্য এই পরাজয় এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে তারা অস্ট্রেলিয়ার ১৫ বছরের ঘরোয়া টেস্ট জয়ের রেকর্ড ভেঙে জয়লাভ করে। এই জয় ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং সিডনিতে শেষ টেস্টের প্রস্তুতিতে নতুন উদ্যম যোগায়।
সিডনিতে পঞ্চম ও শেষ টেস্টটি আগামী রবিবার শুরু হবে। শুক্রবার ঘোষিত ১২ সদস্যের দলে দ্রুতগতি পেসার ম্যাথু পটসও অন্তর্ভুক্ত, যিনি গত ডিসেম্বর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তার দশম টেস্টের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন এবং এখন প্রথমবার অশেজে অংশ নিতে যাচ্ছেন। পটসের পাশাপাশি গাস অ্যাটকিনসন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়ে, ফলে একাদশে পরিবর্তন নিশ্চিত হয়েছে।
কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং অধিনায়ক বেন স্টোকস সাধারণত টেস্টের দুই দিন আগে একাদশ ঘোষণা করেন, তবে সিডনির কন্ডিশন বিবেচনা করে তারা শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছুক। এই পদ্ধতি শোয়েব বাশিরের মাঠে নামার সম্ভাবনাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে, কারণ শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন তার বাদ পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
শোয়েব বাশিরের শেষ টেস্ট জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে হয়েছিল, আর ম্যাথু পটসের শেষ টেস্ট ডিকেম্বরে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। উভয় খেলোয়াড়ই এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, বিশেষ করে পটসের জন্য অশেজের প্রথম অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ডের ১২ সদস্যের দলে অধিনায়ক বেন স্টোকস, শোয়েব বাশির, জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুক, ব্রাইডন কার্স, জ্যাক ক্রলি, ব্রেন ডাকেট, উইল জ্যাকস, ম্যাথু পটস, জো রুট, জেমি স্মিথ এবং জশ টং অন্তর্ভুক্ত। দলটি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া মাঠের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত, এবং শেষ টেস্টের ফলাফল সিরিজের চূড়ান্ত রেকর্ড নির্ধারণ করবে।
সিডনির মাঠে শেষ টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত। কোচ ম্যাককালাম টিমের ব্যালেন্স বজায় রাখতে এবং স্পিন ও পেসারদের সমন্বয় নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন। শেষ টেস্টের ফলাফল সিরিজের সমাপনী হবে এবং অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া জয়ের দীর্ঘ বিরতি শেষ করতে পারে, অথবা ইংল্যান্ডের অশেজ জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।
সিডনিতে শেষ টেস্টের সূচি ও সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত, এবং উভয় দলের ভক্তরা এই ম্যাচের জন্য উন্মুখ। ইংল্যান্ডের দল এখন শেষ টেস্টে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত।



