মুম্বাই, মহারাষ্ট্র – ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিব সেনা (উদ্ভব) ফ্র্যাকশনের মুখপাত্র আনন্দ দুবে শাহরুখ খানকে সতর্ক করেন, যদি তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেএকেআর) দলের তালিকায় বাংলাদেশি দ্রুতগতি বলার মুস্তাফিজুর রহমানকে রাখেন, তবে তার আইপিএল আয় সম্ভাব্যভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তহবিল হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। দুবে উল্লেখ করেন, যদি খান এই খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেন, তবে তাকে সম্মান ও প্রশংসা করা হবে, কিন্তু খেলোয়াড়কে মাঠে রাখলে ঝুঁকি বাড়বে।
কেএকেআর ২০২৬ আইপিএল মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২ কোটি রুপি মূল্যে নির্বাচন করে একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দলকে শক্তিশালী করতে চেয়েছে। এই চুক্তি আইপিএল নিলামে প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুস্তাফিজুরের সাইনিংকে কেবল ক্রীড়া দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করা হয়। শিব সেনা (ইউবিটি) পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা প্রকাশ করে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কিছু নেতা, যারা আগে থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা এই খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নে তুলেছেন।
বিজেপি নেতাদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের শ্রী সঙ্গীত সোমের মন্তব্য বিশেষভাবে তীব্র। তিনি শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে সমালোচনা করেন এবং মুস্তাফিজুরের অন্তর্ভুক্তিকে ‘বহিরাগত খেলোয়াড়কে সমর্থন করা’ হিসেবে নিন্দা করেন। এই রকম মন্তব্যের পটভূমিতে গত বছর বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় ও মানবিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
শিব সেনা (ইউবিটি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এই প্রতিক্রিয়া কেবল ক্রীড়া জগতের নয়, দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনার সূত্রপাত করেছে। শিব সেনা দাবি করে যে, আইপিএল আয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার সন্ত্রাসী সংগঠনের তহবিল হিসেবে হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
কেএকেআর দল এই বিতর্কের মুখে অবস্থান স্পষ্ট করেনি, তবে দলটি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। দলটি আগামী সপ্তাহে প্রি-সিজন ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করবে এবং প্রথম ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত। মুস্তাফিজুরের অংশগ্রহণের বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত, তবে শিব সেনা (ইউবিটি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের চাপে দলটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নজরে থাকবে।
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে কেএকেআরকে বহু ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে, এবং দলটি শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই সময়ে শিব সেনা (ইউবিটি) ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মন্তব্য ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শাহরুখ খান ও কেএকেআরের বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক তীব্রতা অর্জন করেছে, যেখানে শিব সেনা (ইউবিটি) ও বিজেপি নেতারা নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্কের পরিণতি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পর্যবেক্ষণ করা হবে।



