রংপুর শহরে মশা সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা দিন-রাত বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। নগর পরিষদের কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় আট লক্ষ মানুষ এই সমস্যার শিকার।
প্রথমে মশা কেবল সন্ধ্যায়ই বিরক্ত করত, তবে এখন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো বিরতি নেই। ফলে মানুষকে দিনের বেলাতেও মশা কোয়েল জ্বালাতে হচ্ছে, যা আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং ঘরের বাতাসে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
মশা বাড়ি, দোকান, বিদ্যালয়সহ সব ধরনের স্থানে প্রবেশ করেছে, ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
শ্যামসুন্দরী খাল, যা রংপুরের কেন্দ্র দিয়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ, এখন আবর্জনা ও প্লাস্টিকের গুদাম হিসেবে কাজ করছে। খালের পানির স্তর স্থবির ও দূষিত, যা মশার প্রজননের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
খালে পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, গৃহস্থালীর বর্জ্য ইত্যাদি জমে রয়েছে; পানির জমাট বাঁধা অংশে মশার ডিম দ্রুত ফুটে ওঠে। এই অবস্থা শহরের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গুপতাপাড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী নুরু চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি আগে কখনো এত বড় মশা সমস্যার সম্মুখীন হননি এবং নগর পরিষদের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে পাননি, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে কঠিনতা বেড়েছে।
লালবাগের ৫৫ বছর বয়সী মেহের জামাল জানান, এখন দিনভর কোয়েল জ্বালাতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও বিরক্তিকর। পূর্বে পরিষদ নিয়মিত মশা দমন অভিযান চালাত, তবে এই বছর তা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে।
মনশিপাড়া এলাকার ৭০ বছর বয়সী শাহিদুর রহমান বেপারী উল্লেখ করেন, নগর পরিষদ মশা সমস্যায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে পারেনি।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ইবনে তাজের মতে, বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাব ও অবহেলা শ্যামসুন্দরী খালকে আবর্জনার গুদাম করে তুলেছে, যা মশার প্রজননের প্রধান উৎস।
তিনি জানান, যদিও পরিষদ সময়ে সময়ে খাল পরিষ্কার করে, তবে দ্রুতই আবার আবর্জনা জমে এবং পানি আবার স্থবির হয়ে যায়। তাই ধারাবাহিক ও সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
মশার কামড়ে ডেঙ্গু, চিকুন, জ্বরের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে। বর্তমানে কোনো বৃহৎ পরিসরের ফগিং বা লারভিসাইড প্রোগ্রাম ঘোষিত হয়নি, ফলে বাসিন্দারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোয়েল ও রেপেলেন্টের ওপর নির্ভর করছেন।
নগর পরিষদকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ পরিষ্কার অভিযান চালিয়ে খাল থেকে আবর্জনা অপসারণ, স্থবির পানির নিষ্কাশন এবং নিয়মিত মশা দমন কার্যক্রম শুরু করা উচিত। পাশাপাশি, জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার ও শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
মশা সমস্যার সমাধানে নাগরিক ও সরকার কীভাবে একসাথে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন, যাতে রংপুরের বাসিন্দারা স্বস্তি পেতে পারেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।



