ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেস কার্টার গার্ডিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়ে গর্বিত হয়েছেন, যেখানে তিনি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলে শিরোপা জয় এবং আমেরিকান ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগে প্রথম শিরোপা অর্জন করেছেন।
এই পুরস্কারটি এমন খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় যারা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে, বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করে, অন্যকে সাহায্য করে বা সততার সঙ্গে উদাহরণ স্থাপন করে। কার্টারকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে তার দৃঢ়তা এবং সামাজিক দায়িত্বের জন্য।
কার্টার তার জীবনের বেশিরভাগ সময় নিজের স্বরকে কীভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং কখন থামতে হবে তা নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। তার বাবা-মা তাকে খোলামেলা, সৎ, স্বচ্ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছেন, তবে সমাজে কালো নারীর প্রতি নেতিবাচক স্টেরিওটাইপের কারণে এই গুণগুলোকে কখনও কখনও নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।
তিনি স্বীকার করেছেন যে, একটি কালো নারী ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে সঠিকভাবে আচরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ছোটবেলায় তিনি সরাসরি কথা বলার স্বভাবের কারণে কখনও কখনও সমস্যায় পড়তেন, তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি নিজের স্বরকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে শিখেছেন।
ইউরো ২০২৫ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ফ্রান্সের কাছে ২-১ হারে পরাজিত হওয়ার পর, কার্টার সামাজিক মিডিয়ায় বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হন। ম্যাচের পর তিনি পরিবারসহ বাড়িতে ছিলেন এবং ইনস্টাগ্রাম ডাইরেক্ট মেসেজ চেক করছিলেন; সাধারণত তিনি অপ্রয়োজনীয় মেসেজ মুছে ফেলেন, তবে এই বার্তাগুলো তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
এই অবস্থা সত্ত্বেও তিনি তৎক্ষণাৎ সামাজিক প্ল্যাটফর্মে বর্ণবাদী আক্রমণকে প্রকাশ্যে নিন্দা করেন, যা কোনো পূর্ব পরিকল্পনা না হয়ে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল। তার এই পদক্ষেপটি তৎকালীন মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং অনেকের কাছ থেকে সমর্থন পায়।
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের দল অবশেষে টুর্নামেন্ট জয় করে, এবং কার্টার দলের রক্ষার দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতিতে তিনি দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা অর্জন করেন।
ক্লাব স্তরে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগে প্রথম শিরোপা জিততে সহায়তা করেন, যেখানে তার রক্ষণাত্মক দক্ষতা এবং মাঠে দৃঢ়তা দলকে বিজয়ী পথে নিয়ে যায়। এই দু’টি শিরোপা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর সূচক হয়ে দাঁড়ায়।
গার্ডিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার তার জন্য কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং সমাজে বর্ণবাদ ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে অন্যদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে চান, যাতে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ কমে।
আজও কার্টার তার স্বরকে ব্যবহার করে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রচার করছেন, একই সঙ্গে মাঠে তার পারফরম্যান্স বজায় রাখছেন। তার গল্প ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।



