মুনশিগঞ্জ জেলার ৩ নম্বর সংসদীয় আসনে স্বাধীন প্রার্থীরূপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া বিএনপি জেলা সদস্য সচিব মোঃ মাহিউদ্দিনের নামনির্ধারণ পত্র আজ সকাল ১১:১৫টায় মুনশিগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসে বাতিল করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার সাইদা নূরমাহল আশরাফি নামনির্ধারণের যাচাই প্রক্রিয়ার সময় এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
বাতিলের মূল কারণ হল সমর্থক ভোটারদের স্বাক্ষরে এক শতাংশেরও বেশি ত্রুটি পাওয়া যাওয়া। স্বাক্ষরের বৈধতা যাচাইয়ের সময় এই অমিল স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ফলে প্রার্থীর নামনির্ধারণ পত্র আর গ্রহণযোগ্য নয়।
বাতিলের মুহূর্তে মাহিউদ্দিন এবং মোট আটজন অন্যান্য প্রার্থি, যার মধ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত প্রার্থী মোঃ কামরুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন। সকল প্রার্থি এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এবং রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন।
মাহিউদ্দিন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাক্ষরের ত্রুটি নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে এবং তাই তিনি আইনি পথে প্রতিকার চান।
মুনশিগঞ্জ-১ আসনে গতকালও দুইজন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর নামনির্ধারণ পত্র বাতিল হয়েছে। একই রকম স্বাক্ষর ত্রুটির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থির মধ্যে রয়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সচিব মীর সরাফত আলী সোপু এবং জেলা কমিটি সদস্য মোমিন আলী। উভয় প্রার্থীই স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে সমর্থক তালিকায় স্বাক্ষরের অমিল তাদের পত্রকে অযোগ্য করে তুলেছে।
বাতিলের পর মীর সরাফত আলী সোপু এবং মোমিন আলী উভয়ই নির্বাচন কমিশনে আপিলের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। তারা দাবি করেন যে, স্বাক্ষরের ত্রুটি প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল এবং পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
এই সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং অফিসাররা ব্যাখ্যা করেন। তবে প্রার্থি ও সমর্থকদের দৃষ্টিতে এটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নামনির্ধারণ বাতিল হওয়া দলীয় ঐক্য ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাধীন প্রার্থি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া সদস্যদের বাদ পড়া হলে আসনের ভোটের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে।
নির্বাচনী কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে আপিলের ফলাফল এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি আপিল গ্রহণ করা হয়, তবে বাতিল হওয়া পত্র পুনরায় স্বীকৃত হতে পারে; অন্যথায় সংশ্লিষ্ট আসনে নতুন প্রার্থি তালিকা চূড়ান্ত হবে।
মুনশিগঞ্জের দুইটি আসনে একসাথে একাধিক নামনির্ধারণ বাতিল হওয়া দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশে সতর্কতা সঞ্চার করেছে। স্বাক্ষর যাচাইয়ের কঠোরতা বাড়ার ফলে ভবিষ্যতে প্রার্থীদের সমর্থক তালিকা প্রস্তুতিতে অধিক মনোযোগ দিতে হবে।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আইনি কাঠামো ও প্রয়োগের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভোটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রার্থীদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এখন আরও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



