আজ ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়, যার ফলে মোট নয়টি ফ্লাইটকে বিকল্প গন্তব্যে পাঠাতে হয়। এই ঘটনা ঘটেছে শীতের মাসে, যখন দৃষ্টিসীমা হ্রাস পায় এবং অবতরণে বাধা সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জানানো তথ্য অনুযায়ী, চারটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম, চারটি কলকাতা (ভারত) এবং একটি ফ্লাইট ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) এ ডাইভার্টেড হয়েছে। ডাইভারশন সম্পন্ন হওয়ার পর কুয়াশা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক অপারেশন পুনরায় শুরু হয়।
শীতকালে ঘন কুয়াশা এবং পর্যাপ্ত দৃষ্টিসীমার অভাবের কারণে ঢাকা বিমানবন্দরে নিয়মিত ডাইভারশন দেখা যায়। বর্তমানে ঢাকা বিমানবন্দরে ক্যাটেগরি ১ ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) স্থাপিত, যা কম দৃষ্টিসীমার পরিস্থিতিতে নিরাপদ অবতরণে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা ক্যাটেগরি ১ থেকে ক্যাটেগরি ২ ILS-এ আপগ্রেডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, তবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAAB) এখনও এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। ক্যাটেগরি ২ ILS রেডিও সিগন্যাল ও উচ্চ তীব্রতার আলো ব্যবহার করে উড়োজাহাজকে উল্লম্ব ও আনুভূমিকভাবে সঠিক পথে গাইড করে, ফলে ঘন কুয়াশার সময়েও নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়।
ILS আপগ্রেড না হওয়ায় এয়ারলাইনগুলোকে প্রায়শই সিলেট, চট্টগ্রাম, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়। এই অতিরিক্ত ল্যান্ডিং ও পার্কিং ফি, জ্বালানি খরচ এবং সময়সীমা বৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর আর্থিক বোঝা বাড়ায়।
একজন বিমান চালকের মতে, ডাইভার্টেড রুটের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা অপারেশনাল ব্যয়কে প্রভাবিত করে। এছাড়া, ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত হয় এবং এয়ারলাইনগুলোর গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাস পায়।
বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট সেফটি প্রধানরা উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা বিমানবন্দরে ক্যাটেগরি ৩ ILS প্রয়োজন, যা শূন্য দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত অবতরণকে সম্ভব করে। বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দর ক্যাটেগরি ২ ILS দিয়ে কাজ করছে, যা তুলনামূলকভাবে উন্নত অবতরণ সুবিধা প্রদান করে।
ঢাকায় অবতরণ করার জন্য ন্যূনতম ৮০০ মিটার দৃষ্টিসীমা প্রয়োজন, যা ঘন কুয়াশার সময় প্রায়ই পূরণ হয় না। ফলে ডাইভারশন ও রি-রুটিংয়ের সংখ্যা বাড়ে, যা সামগ্রিক বিমান চলাচল বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ডাইভারশনজনিত অতিরিক্ত খরচ এয়ারলাইনগুলোর মুনাফা মার্জিনকে সংকুচিত করে এবং টিকিটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। একই সঙ্গে, পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য সময়মত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি ক্যাটেগরি ২ বা ৩ ILS দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তবে শীতকালে ডাইভারশনের হার বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক সংযোগের নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস করবে। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারী ও পর্যটন সংস্থার আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিমানবন্দরের হাব হিসেবে অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
অতএব, CAAB-কে প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও সময়সূচি দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। আপগ্রেড সম্পন্ন হলে ডাইভারশনের সংখ্যা হ্রাস পাবে, জ্বালানি ও ফি সংক্রান্ত ব্যয় কমবে এবং ফ্লাইটের সময়সূচি স্থিতিশীল হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ILS আপগ্রেডের ফলে এয়ারলাইনগুলো অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ও ল্যান্ডিং ফি থেকে সাশ্রয় করতে পারবে, যা সরাসরি মুনাফা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, সময়মত অবতরণ নিশ্চিত হওয়ায় গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নতুন রুট ও ফ্লাইট যোগ করার সম্ভাবনা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, ঘন কুয়াশা ও অপর্যাপ্ত ল্যান্ডিং সহায়তা ব্যবস্থা ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করছে। ক্যাটেগরি ২ বা ৩ ILS-এ আপগ্রেড না করা পর্যন্ত ডাইভারশন ও আর্থিক ক্ষতি অব্যাহত থাকবে, যা বিমান শিল্পের স্থায়িত্ব ও প্রতিযোগিতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।



