বিপিএল-এ বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্স ১৬০ রান লক্ষ্য করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শিকড় গড়ে তুলেছিল। শুরুর দিকে ২২ রানে লিটন দাসের আউটের পর ডেভিড মালান ও তৌহিদ হৃদয় একসাথে শতরানার অংশ গড়ে তুললেও, শেষ পাঁচ ওভারে ৩৮ রান দরকারে পৌঁছায়। তখনও নৌকা বেঁধে ছিল নয়টি উইকেট, তবে শেষের মুহূর্তে রাইডার্সের শিকড় ভেঙে যায়।
ম্যাচের শুরুর দিকে রাইডার্সের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। ১৬.৫ ওভারের প্রথম বলেই তৌহিদ হৃদয় আউট হয়ে যায়, ফলে রাইডার্সের গতি হ্রাস পায়। কাইল মেয়ার্স ও খুশদিল শাহের প্রচেষ্টা ফল না দিয়ে, মালানও ৫০ বলের মধ্যে ৬৩ রান করে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেনি।
শেষ ওভারের প্রথম বলেই খুশদিল শাহ আউট হয়ে যায়, তবে নুরুল হাসান সোহান প্রথম বলেই চারের মাধ্যমে দৌড়ের গতি বাড়িয়ে দেন। চারটি রান যোগ করার পর মাত্র তিনটি রান বাকি থাকে, তবে রিপন মন্ডলের ধারাবাহিক বোলিং রাইডার্সকে থামিয়ে রাখে। দুইটি বলেই রাইডার্সকে এক রান দরকারে সোহান আউট হয়ে যায়, আর শেষ ডেলিভারিতে মাহমুদউল্লাহ বোলারকে ফাঁকা পাঠাতে পারেননি, ফলে একক রান নিতে গিয়ে তিনি নিজেই আউট হন।
রাইডার্সের শেষ সুযোগের পরেও রিপন মন্ডল সুপার ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে তিনটি বলেই জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন। রাইডার্সের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মুখে এই ম্যাচের স্মৃতি তীব্রভাবে জাগ্রত হয়। তিনি বললেন, “ডেভিড মালান ও তৌহিদ হৃদয় যেভাবে ব্যাট করছিল, পুরো ইনিংসই নিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছিল। শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান চমৎকার বাউন্ডারি মারার পর পরিস্থিতি ২০১৬ টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ‑ভারত ম্যাচের মতো হয়ে যায়।”
২০১৬ সালের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতকে এক রান পার্থক্যে হারিয়ে ফেলেছিল। শেষ ওভারে মুশফিকুর রহিমের দুইটি বাউন্ডারির পর ৩ বলে ২ রান দরকারে, স্লোয়ার শর্টে ছক্কা চেষ্টায় আউট হন। পরের বলেই জন মাহমুদুল্লাহ পূর্ণ টসে আউট হন, আর শেষ বলেই মুস্তাফিজুর রহমান একক রান নিতে গিয়ে আউট হন, ফলে ভারত এক রান পার্থক্যে জয়লাভ করে। রাইডার্সের বর্তমান ব্যর্থতা ও ২০১৬ সালের ঐ ম্যাচের সমান্তরালতা কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পর রাইডার্সের পরবর্তী সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে দলটি শীঘ্রই পুনরায় শুটিং শুরু করবে। কোচ আশরাফুলের মতে, এই ধরণের সংকটের মুহূর্তে দলকে মানসিক শক্তি বজায় রেখে পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসা জরুরি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয় তাদের টার্নার্নে আত্মবিশ্বাস যোগাবে, আর রাইডার্সের জন্য এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের গেমে পুনরুদ্ধার করা হবে।



